তার দাবি, কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের দেয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে আসল দুধের চকোলেট ও পিনাট বাটারের পরিবর্তে সস্তা উপকরণ ব্যবহার করছে। ৭০ বছর বয়সী ব্র্যাড রিস গত ফেব্রুয়ারিতে প্রথম এ অভিযোগ তোলেন। তার মতে, হার্শি কর্তৃপক্ষ কিটক্যাটসহ নিজেদের জনপ্রিয় পণ্যগুলোয় আসল চকোলেটের বদলে কম্পাউন্ড কোটিং এবং আসল পিনাট বাটারের পরিবর্তে পিনাট-বাটার-স্টাইল ক্রিম ব্যবহার করছে। তিনি একে চকোলেটের প্রথাগত আর্কিটেকচার বা গঠনশৈলীর পরিবর্তন হিসেবে অভিহিত করেছেন। উল্লেখ্য, ১৯৬০-এর দশকে হার্শি কোম্পানি রিসে’স ব্র্যান্ডটি কিনে নেয়। বর্তমানে রিসে’স ব্র্যান্ডের অধীনে থাকা চকোলেটগুলো হার্শি কোম্পানিই উৎপাদন ও পরিচালনা করে । ব্র্যাড রিস জানান, রিসে’স আনর‍্যাপড চকোলেট পিনাট বাটার ক্রিম মিনি হার্টস খাওয়ার সময় তিনি স্বাদের এ বড় পরিবর্তন লক্ষ করেন। স্বাদে ভিন্নতা থাকায় তিনি পণ্যটি মুখে দিয়ে ফেলে দিতে বাধ্য হন। সম্প্রতি এক বিনিয়োগকারী সম্মেলনে হার্শি কর্তৃপক্ষ জানায়, ব্র্যান্ডটি পণ্যের প্রায় ৩ শতাংশ ক্ষেত্রে মূল রেসিপিতে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। প্রতিষ্ঠানের চিফ গ্রোথ অফিসার স্ট্যাসি ট্যাফেট বলেন, ‘কোম্পানিটি কৃত্রিম রঙের পরিবর্তে প্রাকৃতিক উৎস থেকে প্রাপ্ত রঙ ব্যবহারের দিকে যাচ্ছে।’ কিন্তু রিসে’স পিনাট বাটার কাপসের মূল রেসিপিতে কখনো পরিবর্তন আনা হয়নি বলে দাবি তাদের। তবে ব্র্যাড রিসের এ অভিযোগের সঙ্গে তার পরিবারের অন্য সদস্যরা একমত নন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইউএসএ টুডেকে দেয়া এক বিবৃতিতে তারা জানান, ব্র্যাড রিসের এ মতামত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও এর সঙ্গে পরিবারের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা হার্শি কোম্পানির নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে ব্র্যাড রিস এ পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে পিআর স্টান্ট বা জনসংযোগ কৌশল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি মনে করেন, হার্শি সমস্যা সমাধানের চেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ষাটের দশকে রিসে’স ব্র্যান্ডটি কিনে নেয়ার পর থেকেই হার্শি ধীরে ধীরে উপকরণের মান পরিবর্তন করছে বলে ব্র্যাড রিসের অভিযোগ, যা এখন একটি আইনি ও ব্যবসায়িক বিতর্কে রূপ নিয়েছে।

খবর দ্য গার্ডিয়ান