ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানা সংকটের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ২০২৩ সাল। বিদায় নেয়া বছরটিতে মুদ্রাবাজারে বেশ চ্যালেঞ্জিং সময় পার করেছে ইউরো ও ডলার। ২০২৪ সালেও এ সংকট কাটবে না বলে আশঙ্কা অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের। খবর ইউরোনিউজ।
ইউরোজোনের বিভিন্ন অঞ্চলে চলতি বছর সংসদীয় ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। এছাড়া চলমান বিভিন্ন বৈশ্বিক ও অর্থনৈতিক সংকট এবং মূল্যস্ফীতির মতো বিষয়ও রয়েছে। টানা দুই বছর নিম্নমুখী থাকার পর ২০২৩ সালে ইউরো অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। এ সময় ডলারের বিপরীতে মুদ্রাটির বিনিময় হার ৩ শতাংশ বেড়েছিল। নতুন বছরে প্রবেশের পর থেকেই চলমান অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক ঘটনার কারণে মুদ্রাটি বিপর্যয়ের মুখে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। এছাড়া বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কারণে সামনের মাসগুলোয় মুদ্রাটির গতিপথ বা প্রভাবও পরিবর্তিত হতে পারে।
২০২৪ সালজুড়ে ইউরোজোন ঘিরে বেশকিছু রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া, লিথুনিয়া, পর্তুগাল ও স্লোভাকিয়াসহ বিভিন্ন দেশ বড় ধরনের সংসদীয় ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে আগামী ৬-৯ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচন নিয়েই সবাই আগ্রহী। ইউরোপীয় সংসদে নতুন করে ৭০৫ সদস্য নির্বাচন কমিশন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের সর্বোচ্চ স্তরে পরিবর্তন আনতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া নতুন যে নীতিমালা গ্রহণ করা হবে তা ইউরোর ওপর প্রভাব বিস্তার করবে।
ইউক্রেন-রাশিয়া, ইসরায়েল-গাজাসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চলমান বিভিন্ন সংঘাতের কারণে ইউরো অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে। অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে অঞ্চলটিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে আসার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এছাড়া জাতীয় পর্যায়ের বাজেটসহ সবুজ অর্থনীতিতে পরিবর্তনের বিষয়েও কাজ করতে হবে। ২০২৪ সালে ইউরোপের দেশগুলো কঠোর আর্থিক নীতিমালা গ্রহণ করবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। এ বছর জ্বালানি খাতে সহায়তা কমানোর কথা ভাবছে ইউরোপিয়ান কমিশন।
অর্থনীতির দিক থেকে মহামারী-পরবর্তী সময়ে ইউরোপের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার অনেকটাই গতি ফিরে পেয়েছিল। তবে জীবনযাপন ব্যয় বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাহিদা কমে যাওয়া ও কঠোর মুদ্রানীতির কারণে পুনরুদ্ধারের গতি অনেকটাই কমে গিয়েছিল।
মুদ্রানীতি কার্যকরের অংশ হিসেবে ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইসিবি) গত ডিসেম্বরে মূল সুদহার অপরিবর্তিত রেখেছিল। তবে ফেডারেল রিজার্ভের প্রধান জেরোম পাওয়েলের মতো ইসিবি সভাপতি ক্রিস্টিন লাগার্ডও সতর্ক থাকার কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, এখনই আরোপিত সুদহার কমানো উচিত হবে না। বাজারসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা ২০২৪ সালে ইসিবি সাতবার ২৫ বেসিস পয়েন্ট করে সুদহার কমাবে।
নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বহুজাতিক ব্যাংকিং ও আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ইউরোর বিনিময় হার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অনেকটাই স্থবির হয়ে গেছে। যে কারণে সুদহার কমাচ্ছে ফেড। আর এটিই ডলারের বিপরীতে ইউরোর বিনিময় হার বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্লেষকদের সূত্রে জানা গেছে।










