চলতি বছর ইস্পাতের নিট আমদানিকারকে পরিণত হয়েছে ভারত। এ বছর জুলাই মাসে দেশটির ইস্পাত আমদানি রফতানিকে ছাড়িয়ে যায়। এর আগে গত বছরের জানুয়ারিতে আমদানিতে এমন ঊর্ধ্বমুখিতা তৈরি হয়েছিল।
ভারতের ইস্পাত মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের জুলাইয়ে শিল্প ধাতুটির আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৪ লাখ ৪৪ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে।
গত মাসে ভারত মোট ২৪৪ কোটি ৯০ লাখ ডলারের পরিশোধিত ইস্পাত আমদানি করে। যদিও এপ্রিল-জুলাই পর্যন্ত চার মাসে দেশটি ইস্পাতের নিট রফতানিকারক ছিল। ওই সময় আমদানি ৩ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ১৬ লাখ ১০ হাজার টনে উন্নীত হয়েছিল।
সাশ্রয়ী দামের কারণে আমদানীকৃত ইস্পাতের উল্লেখযোগ্য একটি রাশিয়া থেকে আমদানি করে ভারত। মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, এপ্রিল-জুলাই পর্যন্ত সব থেকে বেশি আমদানি করা হয় হট রোলড কয়েল। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় পণ্যটির আমদানি ২৩ শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে চলতি বছরের মে মাসের শেষ নাগাদ ইস্পাতজাত পণ্য রফতানির ওপর ১৫ শতাংশ করারোপ করা হয়েছে। এর পর জুলাইয়ে ভারত মোট ১ লাখ ৫৬ হাজার টন ইস্পাত রফতানি করেছে। ২০১৯ সালের জুন মাসের পর এটিই সর্বনিম্ন ইস্পাত রফতানি। এছাড়া বৈশ্বিক চাহিদায় নিম্নমুখিতা ও অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কাও শিল্পধাতুটির রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। রফতানি শুল্কের কারণে চীনা ইস্পাত থেকে বাজারে দাম বেড়েছে ভারতীয় ইস্পাতের। এতে করে ইস্পাতের সার্বিক চাহিদাও হারিয়েছে দেশটি। সংশ্লিষ্টরা জানান, রফতানি শুল্কের কারণে ভারত থেকে ইস্পাত পরিবহন কমেছে।
জুলাইয়ে ভারতের মোট আমদানীকৃত পণ্যের মধ্যে ৯৯ হাজার টন ছিল রোলড কয়েল ও স্ট্রিপ। সে হিসেবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছরের জুলাইয়ে পণ্যটির আমদানি বেড়েছে ১১১ শতাংশ। জিপি/জিসি শিট ও কয়েলের আমদানি এক বছরে ১০ শতাংশ বেড়ে ৭৫ হাজার ৪০০ টনে উন্নীত হয়েছে। বৈদ্যুতিক শিট আমদানি কমেছে ৫০ শতাংশেরও বেশি।
এছাড়া অমসৃণ ইস্পাতের আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৯ শতাংশ কমেছে। মসৃণ ইস্পাতের আমদানি কমেছে ৪ শতাংশ।










