চাল-পেঁয়াজসহ অনেক ভোগ্যপণ্যের দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী। এ অবস্থায় ভোগ্যপণ্যের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) আটা ও ময়দায় দাম বেড়েছে প্রায় ১০০ টাকা। আর প্রতি মণ গমের দাম বেড়েছে ২০০ টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাম্প্রতিক সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস করতে দেরি হওয়ায় গমের সরবরাহ সংকট দেখা দেয়। এতে গমের দাম বেড়েছে। আর গমের দাম বাড়ার কারণে বেড়েছে আটা-ময়দার দামও।

গতকাল নিতাইগঞ্জ ঘুরে দেখা যায়, কানাডা থেকে আমদানি হওয়া উন্নত মানের গম মণপ্রতি ১ হাজার ৩২০ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে। এক মাস আগেও একই গম বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ১২০ টাকা দরে। সে হিসাবে এ প্রকারের গমের দাম মণপ্রতি বেড়েছে ২০০ টাকা। অন্যদিকে ইউক্রেনের লাল গম বাজারে মণপ্রতি বেচাকেনা হচ্ছে ১ হাজার ১০০ টাকায়। যা এক মাস আগেও ৯২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সে হিসাবে এই প্রকারের গমের দাম মণপ্রতি বেড়েছে ১৮০ টাকা। 

বাজারে এই দুই প্রকারের গমের বাইরে ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা গমের বেচাকেনা খুবই কম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে লাল গমের চাহিদা বেশি থাকায় মিলাররা ইউক্রেন ও কানাডার গম বেশি কিনছেন।

এদিকে গমের দাম বাড়ার ফলে আটা ও ময়দার দামও বেড়েছে। নিতাইগঞ্জে ৫০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা ভালো মানের আটা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩০০ টাকায়, যা ১৫ দিন আগেও বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ২০০ টাকায়। সে হিসাবে ভালো মানের আটার দাম বেড়েছে বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা। আর কিছুটা নিম্নমানের আটা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা দরে, যা ১০-১২ দিন আগেও বেচাকেনা হয়েছিল ১ হাজার ১০০ টাকা দরে।

অন্যদিকে ৫০ কেজি ওজনের ভালো মানের প্রতি বস্তা ময়দা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। যেখানে ২০ দিন আগেও একই মানের ময়দা বেচাকেনা হয়েছিল ১ হাজার ৪০০ টাকায়। সে হিসাবে এই প্রকারের ময়দার বস্তায় দাম বেড়েছে ২০০ টাকা। এছাড়া কিছুটা নিম্নমানের ময়দা বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে ১ হাজার ৪৫০ টাকায়, যা কিছুদিন আগেও বেচাকেনা হয়েছে ১ হাজার ৩৫০ টাকা দরে।

দাম বাড়ার জন্য পণ্য খালাসে বিলম্ব হওয়াকে দায়ী করছেন আমদানিকারক ও মিলাররা। নারায়ণগঞ্জ আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও লক্ষ্যা ফ্লাওয়ার মিলের স্বত্বাধিকারী শেখ ওয়াজেদ আলী বাবুল বণিক বার্তাকে বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে চট্টগাম বন্দর থেকে পণ্য খালাস করতে সময় বেশি লেগেছে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা। এ কারণে সরবরাহ সংকটে গমের দাম বেড়েছে। এছাড়া আমদানিকারকরা যে দামে গম বিক্রি করেন, পাইকারি বিক্রেতাদের সে দামেই কিনতে হয়। আর একই কারণে মিলাররাও আটা-ময়দার দাম বাড়িয়ে দেন।

অগ্রণী ফ্লাওয়ার মিলের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রহিম জানান, প্রতি বছর শীতের মৌসুমে গমের দাম কিছুটা বাড়ে। আর গমের দাম বাড়ার কারণে আটা-ময়দার দামও বেড়ে যায়। কিন্তু এবার গমের দামের তুলনায় আটা-ময়দার দাম খুব বেশি বাড়েনি বলে দাবি করেন এ ব্যবসায়ী।

এদিকে আটা-ময়দার দাম বাড়লেও ছোট মিল মালিকদের এখনো লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন অনেক মিলাররা। ইয়াকুব এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী বেনজির আহমেদ তাদের একজন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন,

এবার আটা-ময়দার দাম যে পরিমাণে বেড়েছে, তার চেয়ে বেশি বেড়েছে গমের দাম। বড় বড় মিল মালিক ও আমদানিকারকের কাছ থেকে গম কিনে আমাদের মতো ছোট মিলগুলো ভেঙে বাজারে বিক্রি করে। কিন্তু যেসব বড় মিলার আমাদের কাছে গম বিক্রি করছেন, তারাই আবার বাজারে কম দামে আটা-ময়দা বিক্রি করছেন। ফলে ছোট মিলারদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।