দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি বেড়েছে। ফলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২-৪ টাকা করে কমেছে দাম। তবে ক্রেতা সংকটে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা।

সম্প্রতি চালের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠলে বিপাকে পড়ে নিম্ন আয়ের মানুষ। চালের মূল্য সহনশীল রাখতে আমদানি শুল্ক ৬২ দশমিক ৫  থেকে কমিয়ে ২৬ শতাংশ নির্ধারণ করে সরকার। বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির অনুমতি দেয় হয়। এর মধ্যে হিলির ১৮ জন আমদানিকারক ৬৮ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি পান। ফলে দীর্ঘ প্রায় চার মাস বন্ধ থাকার পর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি শুরু হয়। প্রথম দিকে আমদানির পরিমাণ কম থাকলেও বর্তমানে বেড়েছে।

হিলি কাস্টমসের তথ্যমতে, বন্দর দিয়ে গত ২৪ আগস্ট থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৭ হাজার ৬৫৩ টন চাল আমদানি করা হয়। আয় এসেছে ৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা। বর্তমানে হিলি বাজারে প্রতি কেজি আটাশ জাতের চালের দাম ৪৮ থেকে কমে ৪৬-৪৪ টাকায়, স্বর্ণা জাতের চাল ৪৬ থেকে কমে ৪২-৪৪ টাকায় ও শম্পা জাতের চাল ৬০-৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বন্দরে পাইকারিতে স্বর্ণা জাতের চাল ৪৩-৪২ থেকে কমে ৪১ টাকায়, আটাশ জাতের চাল ৪৬ থেকে কমে ৪৩-৪৪ টাকায় ও শম্পা জাতের চাল ৫৯-৫৮ থেকে কমে ৫৭-সাড়ে ৫৬ টাকায় নেমেছে।

হিলি স্থলবন্দরের চাল আমদানিকারক হারুন উর রশীদ বলেন, সরকার চালের আমদানি শুল্ক কমানোয় এবং বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির অনুমতি দেয়ায় আমরা ব্যাপক হারে এলসি খুলেছি। প্রথম পর্যায়ে ভারতের অভ্যন্তরে যানজটের কারণে চাল আমদানির পরিমাণ কম ছিল। এছাড়া চাল আমদানির খবরে প্রথম দিকে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। এতে আমদানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বর্তমানে যানজট সমস্যার সমাধান হওয়ায় বন্দর দিয়ে প্রচুর পরিমাণে চাল আমদানি হচ্ছে। ফলে দেশের বাজারে চালের দাম কমে গেছে। পাইপলাইনে প্রচুর পরিমাণে চাল রয়েছে। এগুলো দেশে প্রবেশ করলে চালের দাম আরো কমবে। তবে আমদানিতে উল্লম্ফনের কারণে চাল বেচা-কেনা স্থবির হয়ে পড়েছে।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, প্রথম দিকে ৫-১০ ট্রাক করে চাল আমদানি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ২৫-৩০ ট্রাকে উন্নীত হয়েছে। আমদানি বাড়ার ফলে সরকারের রাজস্ব আহরণ যেমন বেড়েছে তেমনি বন্দর কর্তৃপক্ষের আয়ও বেড়েছে। চাল যেন বন্দর থেকে দ্রুত খালাস হয় সে ব্যবস্থা নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।