আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের দাম। ডলারের বিনিময় হার দুর্বল হয়ে পড়া এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার কারণে তৈরি অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ আরো বাড়িয়েছে। গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে দশমিক ৩ শতাংশ। খবর রয়টার্স।
স্পট মার্কেটে গতকাল স্বর্ণের দাম দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৩৬১ ডলার ৭৩ সেন্টে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৩৮৫ ডলার ৮০ সেন্টে।
ছয়টি প্রধান মুদ্রা (ইউরো, জাপানি ইয়েন, ব্রিটিশ পাউন্ড, কানাডিয়ান ডলার, সুইডিশ ক্রোনা ও সুইস ফ্রাঁ) নিয়ে গঠিত সূচক ডলার ইনডেক্সের বিপরীতে গতকাল ডলারের বিনিময় হার কমেছে দশমিক ১ শতাংশ। এতে আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে অন্যান্য মুদ্রায় বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের গুরুত্ব আরো বেড়েছে।
আর্থিক পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান উইজডমট্রির পণ্যবাজার-বিষয়ক কৌশলবিদ নিতেশ শাহ বলেন, ‘বাণিজ্য আলোচনা নিয়ে একই ধরনের উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে খুব বেশি অগ্রগতি হচ্ছে না। এতে শুল্কের স্থিতি নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা, যা বর্তমানে স্বর্ণের দাম বাড়ার কারণ।’
ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বলেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কঠোর এবং তার সঙ্গে চুক্তি করা খুবই কঠিন। এর কিছুদিন আগে ট্রাম্প চীনকে শুল্ক ও বাণিজ্য বিরতি কমানোর চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে আমদানীকৃত ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামে গতকাল শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য যুদ্ধ আরো তীব্রতর পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েছে। তবে ঘোষণাটি এমন সময়ে দেয়া হলো যখন জুলাই থেকে অন্যান্য পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ এড়ানোর জন্য তিনি বাণিজ্য অংশীদারদের ‘সর্বোত্তম প্রস্তাব’ দেয়ার জন্য বলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) নীতির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আরো ধারণা পেতে শুক্রবারের যুক্তরাষ্ট্রের চাকরিসংক্রান্ত তথ্যের দিকে নজর থাকবে। ফেডের কর্মকর্তারা বাণিজ্য উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে তাদের সতর্ক নীতি অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
জার্মানিভিত্তিক ব্যাংক কমার্জব্যাংকের বিশ্লেষক কারস্টেন ফ্রিৎজ বলেন, ‘যদি ডাটা প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী হয়, তবে সুদহার কমানোর প্রত্যাশা কমে যাবে। এতে স্বর্ণের দামে প্রভাব পড়বে। আমরা আশা করছি, স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ ডলারের মধ্যে থাকবে।’
বাজার যখন অস্থিতিশীল থাকে তখন স্বর্ণে বিনিয়োগ বেড়ে যায়। কারণ অন্যান্য সম্পদের তুলনায় মূল্যবান এ ধাতুতে বিনিয়োগে তুলনামূলক ঝুঁকি কম।
অন্যান্য ধাতুর মধ্যে গতকাল স্পট মার্কেটে রুপার দাম আউন্সপ্রতি দাঁড়ায় ৩৪ ডলার ৪৯ সেন্টে। এদিকে প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৮৪ ডলার ৮০ সেন্ট ও প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৯৯৮ ডলার ৩০ সেন্টে পৌঁছেছে।










