সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) চলতি বছর জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ব্যাপারে নতুন পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মার্চে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছিল, দেশটিতে জ্বালানি তেলবহির্ভূত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে ৪ দশমিক ২ শতাংশ। নতুন পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, এ বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি তেলবহির্ভূত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। খবর দ্য ন্যাশনাল।
দেশটির ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্প এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতিও কমে প্রান্তিক পর্যায়ে নেমে আসবে বলে পূর্বাভাসে প্রকাশ।
২০২২ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি তেলবহির্ভূত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৭ দশমিক ২ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে জ্বালানি তেলবহির্ভূত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা ধীরগতিতে হবে বলে ধারণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ত্রৈমাসিক ইকোনমিক রিভিউতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
কিন্তু চলতি বছরের অবশিষ্ট অংশে ভ্রমণ ও পর্যটন বাড়বে। পাশাপাশি প্রোপার্টি খাতে প্রবৃদ্ধি হবে। সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণও বাড়বে। সবকিছু মিলিয়ে জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাতে রেকর্ড পরিমাণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
পূর্বাভাসে জানানো হয়, চলতি বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতিতে ভ্রমণ ও পর্যটন খাত থেকে ১৮ হাজার ৬০ কোটি দিরহাম (৪ হাজার ৯১৮ কোটি ডলার) যুক্ত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। গত মাসে ওয়ার্ল্ড ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিল জানায়, এটি চলতি বছরে দেশটির মোট অর্থনীতির ১০ শতাংশ।
চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দুবাইয়ে ৪৭ লাখ পর্যটক ভ্রমণ করেছে। এ বছর আন্তর্জাতিক পর্যটকদের ক্ষেত্রে কভিড-১৯ মহামারী-পূর্ববর্তী বার্ষিক সংখ্যা অতিক্রম করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দুবাই। দুবাইয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ট্যুরিজম অ্যান্ড কমার্স মার্কেটিংয়ের প্রধান নির্বাহী ইসাম কাজিম গত মাসে দ্য ন্যাশনাল নিউজকে এ তথ্য জানান।
এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেসামরিক বিমান খাতের অবস্থা কভিড-১৯ মহামারী-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে এসেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশটির বিমানবন্দরগুলো ৩ কোটি ১৮ লাখ পর্যটককে স্বাগত জানিয়েছে। এ সংখ্যা ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় ১ কোটি ১৫ লাখ বেশি।
২০৩১ সালের মধ্যে অর্থনীতি দ্বিগুণ করে ৩ লাখ কোটি দিরহামে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এক্ষেত্রে দেশটি জ্বালানি তেলবহির্ভূত পণ্যের রফতানি ও পর্যটন খাতের বিকাশে জোর দেবে।










