জুলাইয়ে অপরিশোধিত ইস্পাতের বৈশ্বিক উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো উৎপাদন কমল। এছাড়া বছরের প্রথম সাত মাসের উৎপাদনেও দেখা গিয়েছে নিম্নমুখিতা। ফলে বিশ্বজুড়ে শিল্পোৎপাদন ও অবকাঠামো খাত বিপাকে পড়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলো ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়াচ্ছে। মুদ্রা সংকোচন নীতির কারণে অর্থনীতিগুলো ক্রমেই মন্দার দিকে ধাবিত হচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শিল্প ধাতুটির উৎপাদনে।

প্রতি মাসেই অপরিশোধিত ইস্পাতের বৈশ্বিক উৎপাদন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশন। শীর্ষ ৬৪ দেশের উৎপাদনের ওপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদন তৈরি করে সংস্থাটি। বৈশ্বিক উৎপাদনের ৮৫ শতাংশই আসে এসব দেশ থেকে।

ওয়ার্ল্ড স্টিলের প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাইয়ে অপরিশোধিত ইস্পাতের বৈশ্বিক উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪ কোটি ৯৩ লাখ টনে। বছরের প্রথম সাত মাসে উৎপাদন হয়েছে ১১০ কোটি ২৩ লাখ টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৪ শতাংশ কম।

বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদক দেশ চীন। বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় অর্ধেকই আসে দেশটি থেকে। কিন্তু করোনা মহামারীর নতুন ধাক্কা, প্রপ্রার্টি খাতে বিপর্যয়, কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রাসহ নানা কারণে লম্বা সময় ধরেই খাদের কিনারে দেশটির ইস্পাত উৎপাদন খাত। প্রতি মাসেই কমছে উৎপাদন। সর্বশেষ জুলাইয়ে দেশটিতে ৮ কোটি ১৪ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন ৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। এছাড়া চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশটিতে ৬০ লাখ ৯৩ হাজার টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৪ শতাংশ কম।

শিল্প ধাতুটি উৎপাদনে চীনের পরই ভারতের অবস্থান। শীর্ষ সব দেশে উৎপাদন কমলেও ভারতে উৎপাদন বেড়েছে। দেশটির খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারত নিট ইস্পাত আমদানিকারক দেশ থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। দেশটি এখন ইস্পাত উৎপাদনে দ্বিতীয় শীর্ষ। আগামী বছরগুলোয় উৎপাদনে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকলে চীনকে পেছনে ফেলে তালিকায় প্রথম স্থানে উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

ওয়ার্ল্ড স্টিলের প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাইয়ে ভারতে ১ কোটি ১ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন বেড়েছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ। বছরের প্রথম সাত মাসে উৎপাদন হয়েছে ৭ কোটি ৩৩ লাখ টন, যা গত বছরের একই সময়ে তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি।

গত মাসে জাপানের উৎপাদনও কমেছে। তৃতীয় শীর্ষ দেশটিতে উৎপাদন হয়েছে ৭৩ লাখ টন ইস্পাত, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ কম। সাত মাসে উৎপাদন কমেছে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৩৩ লাখ টন।

অন্যান্য শীর্ষ দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন ৬ দশমিক ৪, রাশিয়ার ১৩ দশমিক ২, দক্ষিণ কোরিয়ার দশমিক ৬, জার্মানির ২, তুরস্কের ২০ দশমিক ৭ ও ব্রাজিলের ৮ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে।