ভবিষ্যতে ব্যবসায় নতুন যুগ আনতে যাচ্ছে টিকটকভিত্তিক ‘শপারটেইনমেন্ট’। বিনোদনমূলক ভিডিওর পাশাপাশি ব্যবসায়িক প্লাটফর্মে পরিণত হয়েছে এটি, ২০২৫ সালের মধ্যে এশিয়া-প্যাসিফিকজুড়ে যার মূল্যে দাঁড়াবে ট্রিলিয়ন ডলারে। এমনটাই মনে করেন থাইল্যান্ড টিকটকের বিজনেস মার্কেটিংয়ের প্রধান সিরিনিত ভিরায়াসিরি। খবর ব্যাংকক পোস্ট।
মিডিয়া প্রতিষ্ঠান টলুনার জরিপে দাবি করা হয়েছে, বিক্রয় মৌসুমে শর্ট ভিডিও প্লাটফর্ম টিকটকের ৯৭ শতাংশ থাই ব্যবহারকারী বিজ্ঞাপন দেখে সাড়া দিয়েছেন। জরিপে দেখা গেছে, টিকটক অব্যবহারকারীদের চেয়ে ব্যবহারকারীরা মেগা বিক্রয় মৌসুমে ১০ হাজার থেকে ১৭ হাজার ৬০০ বাথ পর্যন্ত খরচ করতে ৩ দশমিক ৫ গুণ বেশি ইচ্ছুক। সিরিনিত বলেন, ‘২০২২ সালের মেগা বিক্রয় মৌসুমে থাইল্যান্ডের ৮০ শতাংশ টিকটক ব্যবহারকারী ‘‘টিকটক শপে’’ কেনাকাটা করেছেন। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া তিন পণ্য হচ্ছে পোশাক ও ফ্যাশন, কসমেটিকস এবং খাদ্য-পানীয় পণ্য।’
সিরিনিত জানিয়েছেন, মেগা বিক্রয়ের সময় যেসব কারণে ক্রেতারা এতটা আকৃষ্ট হয়েছেন তার মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে ডেলিভারি, ডিসকাউন্ট কুপন ও ক্যাশ অন ডেলিভারির মতো সুবিধা। টিকটক একটি অনন্য প্লাটফর্ম। এখানে একটি একক অ্যাপে সমানতালে কনটেন্ট ও ব্যবসা চলছে। বিশেষ করে গত বছর অ্যাপসটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে টিকটক শপ ফিচারটি চালু করার পর।
বোস্টন কনসালটিং গ্রুপ (বিসিজি) ও টিকটকের ‘২০২২ ফিউচার অব কমার্স’ প্রতিবেদন বলছে, ৮৫ শতাংশ ক্রেতা যারা অনলাইনে কেনাকাটার সময় অন্য লিংকে যেতে হয় কিংবা অ্যাপস পাল্টাতে হয়। তাদের জন্য টিকটক একটি ঝামেলাহীন বিকল্প। কেননা টিকটকের বিরামহীন ব্যবহারের মাঝে কোনো অর্ডার সম্পন্ন করতে অ্যাপস থেকে বের হতে হবে না। টিকটকের মাসে ৩২ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে এবং শুধু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে ১ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি ব্যবসাকে প্রসারিত করছে।
শপারটেইনমেন্টের নতুন অনলাইন শপিংয়ের প্রবণতা এমন সময়ে প্রচুর সুযোগ উন্মোচন করেছে, যখন ভোক্তা চাহিদার জগৎ গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিসিজির গবেষণা অনুসারে, শপারটেইনমেন্ট ২০২৫ সালের মধ্যে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ১ ট্রিলিয়ন মূল্যের ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি করবে। যার মধ্যে শুধু থাইল্যান্ডেই ১ হাজার ২৪০ কোটি ডলার ব্যবসা সম্প্রসারণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিসিজি বলছে, টিকটকের ৭৭ শতাংশ ক্রেতাই ‘মজাদার কনটেন্ট’ দেখে প্রভাবিত হয়ে ক্রয়াদেশ দিয়ে থাকেন। প্রতি তিনজন ব্যবহারকারীর মধ্যে দুজনই নতুন কোনো ব্রান্ডের পণ্য আবেগ তাড়িত হয়ে কেনেন। সমীক্ষায় দেখা গেছে ৬০ শতাংশ ভোক্তা ‘ব্র্যান্ডেড কনটেন্ট’ দেখে কেনার মানসিকতা রাখেন না। তাদের প্রত্যাশা পরিবর্তন হয়ে যায়। প্রায় ৩৪ শতাংশ ভোক্তা ব্র্যান্ডেড সামগ্রী সম্পর্কে সন্দিহান থাকেন। ফলে তাদের কেনার সম্ভাবনা কমে আসে।
শপারটেইনমেন্ট ব্র্যান্ডের সম্ভাবনা উন্মোচনে সাহায্য করতে পারে। ব্র্যান্ডগুলো টিকটকে কেনাকাটার ওপর জোর দিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে অর্থপূর্ণভাবে যুক্ত হতে পরে। তিনি বলেন, ‘যেহেতু ৭০ শতাংশ ভোক্তা পণ্য কেনার সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় টিকটকের কনটেন্টকে বিশ্বাস করেন। এছাড়া স্বাধীন কনটেন্ট নির্মাতা, তারকা ও ব্র্যান্ডে ফার্মগুলোর মজাদার ভিডিওগুলো দেখে প্রতি চারজনের একজন টিকটক ব্যবহারকারী টিকটক শপে অর্ডার দিয়ে থাকেন।’










