ঈদুল আজহা অত্যাসন্ন। এ সময় দেশীয় বাজারে পেঁয়াজের চাহিদা আকাশছোঁয়া। কিন্তু সে অনুপাতে পণ্যটির দাম বাড়েনি। আমদানি ঊর্ধ্বমুখী থাকায় দিনাজপুরের হিলিতে পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।
হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। নাসিক ও ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। এর মধ্যে নাসিক জাতের পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে প্রকারভেদে ৩১-৩২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ ২৮-২৯ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চার-পাঁচদিন ধরে পণ্যটির বাজারদর স্থিতিশীল রয়েছে।
বন্দরসংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদ উপলক্ষে পেঁয়াজের বাড়তি চাহিদার কারণে স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি বাড়িয়েছেন বন্দরের আমদানিকারকরা। শুধু বৃহস্পতিবারই বন্দর দিয়ে ১ হাজার ৩৪১ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। প্রতিদিনই আমদানির পরিমাণ বাড়ছে। আমদানি অব্যাহত থাকায় বাজারে পণ্যটির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। অতি সম্প্রতি দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন বন্দরের আমদানিকারকরা।
হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মোবারক হোসেন ও পেঁয়াজ ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা ছয়দিন বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকবে। এ কারণে দেশের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কমে আসতে পারে। সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমদানি বাড়ানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার একদিনেই বন্দর দিয়ে ৪৭টি ট্রাকে ১ হাজার ৩৪১ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।
তারা আরো বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে এলসি দেয়া হয়েছে। কার্যক্রম বন্ধ হওয়া পর্যন্ত বন্দর দিয়ে আমদানি অব্যাহত থাকবে। তাই সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেবে না। ফলে বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনাও নেই।
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে পেঁয়াজের আমদানি আগের তুলনায় বেড়েছে। গত সপ্তাহে বন্দর দিয়ে ২৫-৩০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হলেও বর্তমানে ৩৫-৪০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বন্দর দিয়ে ৪৭টি ট্রাকে ১ হাজার ৩৪১ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। বুধবার বন্দর দিয়ে ৩১টি ট্রাকে ৮২৪ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়। মঙ্গলবার বন্দর দিয়ে ৩০টি ট্রাকে ৭৯৭ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। সোমবার বন্দর দিয়ে ৩২ ট্রাকে ৮৭৬ পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। রোববার বন্দর দিয়ে ২৪ ট্রাকে ৬৫৬ টন ও শনিবার ৩৫টি ট্রাকে ৯৯০ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। পেঁয়াজ যেহেতু কাঁচামাল তাই কাস্টমসের পরীক্ষণ ও শুল্ক আদায় শেষে অতি দ্রুত এসব পণ্য খালাস করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে।










