পরিবেশকর্মীদের বিক্ষোভের মুখে অস্ট্রেলিয়ার নিউক্যাসল বন্দর দিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে কয়লা রফতানি কার্যক্রম। দেশটির পূর্ব উপকূলে অবস্থিত বন্দরটি অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ কয়লা রফতানি কেন্দ্র। খবর রয়টার্স।

পরিবেশকর্মীদের গ্রুপ রাইজিং টাইড এ বিক্ষোভ করছে বলে জানা গেছে। বিক্ষোভে ১ হাজার ৫০০ জন অংশ নিচ্ছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ৩০০ জন নিউক্যাসল বন্দরের রফতানি রুট অবরোধ করেছে। অবরোধ কর্মসূচি থেকে পুলিশ এ পর্যন্ত ৮০ জনকে গ্রেফতার করেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

ইন্দোনেশিয়ার পর বিশ্বের শীর্ষ তাপীয় কয়লা রফতানিকারক অস্ট্রেলিয়া। একই সঙ্গে ইস্পাত কারখানায় ব্যবহৃত কোকিং কয়লারও শীর্ষ রফতানিকারক দেশটিতে জলবায়ু পরিবর্তন এখন এক বহুল আলোচিত বিষয়।

নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের রাজধানী সিডনি থেকে ১৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নিউক্যাসল পোর্ট। রাজ্য সরকারের তথ্যমতে, পোর্টটি অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ তাপীয় কয়লা রফতানি কেন্দ্র।

নিউক্যাসল বন্দরের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘বর্তমানে শিপিং চ্যানেলে বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতির কারণে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ।’

বিক্ষোভরত সংগঠন রাইজিং টাইডের মুখপাত্র জ্যাক স্কোফিল্ড বলেছেন, ‘‌শনিবার সকাল ১০টার পর থেকে কোনো কয়লাবোঝাই জাহাজ বন্দরে প্রবেশ করেনি বা বান্দর থেকেও বেরও হয়নি।’ গত এপ্রিলেও একই ধরনের বিক্ষোভের কারণে পুলিশ রাইজিং টাইডের ৫০ জন সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল।

রয়টার্স জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়া এখনো মাথাপিছু বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর মধ্যে নেতৃস্থানীয় অবস্থানে। অস্ট্রেলিয়ার নতুন মধ্য-বাম সরকার সব জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্প নিষিদ্ধ করতে রাজি নয়। তবে দেশটি ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ ৪৩ শতাংশে কমিয়ে আনতে চায় এবং এ লক্ষ্যে নানা নিরাপত্তা পদক্ষেপ নিতে সম্মত।