জাপানের মূল্যস্ফীতি নভেম্বরে গত ১৬ মাসের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। গতকাল দেশটির অভ্যন্তরীণ ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় প্রকাশিত সরকারি তথ্যে এটা প্রকাশ করা হয়েছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।

খাদ্যের দাম বাড়ার প্রবণতাও ধীর হয়েছে। মূল কনজিউমার প্রাইস ইনডেস্ক বা সিপিআই (পচনশীল খাদ্য ব্যতীত) এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় বেড়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে তা অক্টোবরের ২ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমেছে। ২০২২ সালের জুলাই থেকে সর্বনিম্ন পয়েন্টে রয়েছে।

নভেম্বরে বিদ্যুতের বিল ১৮ দশমিক ১ এবং গ্যাসের দাম ১১ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে, যা মূল্যস্ফীতিকে ধীর করতে সাহায্য করেছে। অপচনশীল খাবারের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। কিন্তু অক্টোবরের ৭ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমেছে। একইভাবে গৃহস্থালির টেকসই জিনিসপত্রের দাম অক্টোবরের ৩ দশমিক ২ থেকে ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে।

অন্যদিকে, হোটেল ফি ৬২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে, যা দেখে বিদেশী পর্যটকের উল্লম্ফন বোঝা যাচ্ছে।

দাই-ইচি লাইফ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইয়োশিকি শিন বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতি ধীর হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। শিল্পভিত্তিক কোম্পানিগুলো দাম বাড়াতে চায়। কিন্তু আমদানির দাম কমে যাওয়ায় কোম্পানিগুলো দ্রুতই দাম বাড়াতে পারছে না।’

শিন আরো বলেন, ‘‌বসন্তে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো হবে। আগামী মাসগুলোয় মূল্যস্ফীতি কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা নির্ভর করছে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর আমদানি ব্যয় ও চাহিদা প্রবণতার ওপর। যদি মজুরি বাড়ে তাহলে তা সার্বিক মূল্য বাড়ার প্রবণতাকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে।’

শিন পূর্বাভাস দেন, ডিসেম্বর ও জানুয়ারির মূল সিপিআই পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২ শতাংশের মধ্যে থাকবে। যদিও এ সময় বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা চলমান। আগামী ফেব্রুয়ারিতে অস্থায়ীভাবে তা ৩ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে।

সামগ্রিক মন্দার প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে সরকারের বিদ্যুৎ ভর্তুকি শুরু করায় আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে সিপিআই অস্থায়ীভাবে ৩ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছবে বলে ধারণা।

সর্বশেষ মূল সিপিআই টানা ২০তম মাসে ব্যাংক অব জাপানের (বিওজে) ২ শতাংশের মূল লক্ষ্যকে অতিক্রম করেছে। বিওজে চলতি সপ্তাহে তার নেতিবাচক সুদহার নীতি বজায় রেখেছে।

বিওজের গভর্নর কাজুও উয়েদা একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘‌লক্ষ্যে পৌঁছনোর সম্ভাবনা ধীরে ধীরে বেড়েছে। আরো পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।’

২০২৪ অর্থবছরে প্রকৃত মজুরি মূল্যস্ফীতিকে ছাড়িয়ে যাবে এমন প্রত্যাশা।৷অক্টোবর পর্যন্ত টানা ১৯ মাস ধরে প্রকৃত মজুরি কমেছে। এতে বোঝা যায় বেতন বাড়ার হারকে ছাড়িয়ে গেছে মূল্যস্ফীতি। নভেম্বরে সিপিআই বেড়ে ২ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। খাদ্য ও জ্বালানিসহ সূচক ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে।