মালয়েশিয়ার সরবরাহ চেইন সক্ষমতা জোরদার করতে সরকারকে বিদ্যমান আমদানি ও রফতানি শুল্ক পুনর্মূল্যায়ন করার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ সমিতি (সামেন্টা)। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে।

সামেন্টার দক্ষিণাঞ্চলের চেয়ারম্যান রায়ান লি বলেন, ‘দেশটিকে তার কর্মশক্তির প্রাপ্যতার সীমাবদ্ধতার বিষয়ে বর্তমান উদ্বেগগুলোও সমাধান করতে হবে।’

উপবিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী লিউ চিন টং জানান, মালয়েশিয়ার পরবর্তী অর্থনৈতিক উত্থানকে এগিয়ে নিতে হবে। সেজন্য বৃহত্তর জোহর বাহরু (মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যের রাজধানী) সম্প্রসারণ ও অগ্রগতির জন্য একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে স্থাপন করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে উপমন্ত্রীর সঙ্গে একমত। জোহর একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় এলাকায় অবস্থিত এবং এখানে ব্যবসার সুযোগ থাকার কারণে উদ্যোগী হওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের যথেষ্ট মনোযোগ আকর্ষণ করছে। সাশ্রয়ী শ্রম, ভাষাগত ক্ষমতা এবং একটি ইতিবাচক শিল্প সেটিংসহ আমাদের অনেক সম্পদ রয়েছে। আমরা এমন কিছু সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, যেগুলো সমাধানের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’

অন্যদিকে মালয়েশিয়ার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) অনলাইন যোগাযোগ দক্ষতা উন্নত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও জানান তিনি, যাতে তারা আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে আরো ভালোভাবে সংযোগ স্থাপন করতে পারেন ও সেই বাজার থেকে শিখতে পারেন।

লি আরো বলেন, ‘আমাদের স্থানীয় এসএমইর অভিজ্ঞতা বর্তমানে উন্নত দেশগুলোর তুলনায় কিছুটা কম উন্নত হতে পারে। যদি আমরা আমাদের ই-কমিউনিকেশন দক্ষতা আরো ভালো গবেষণা এবং সফল সত্তাগুলোকে অনুসরণ করার মাধ্যমে বাড়াতে পারি তাহলে আমাদের জন্য এবং সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি হবে। তখন সম্পদ স্বাভাবিকভাবেই আমাদের দিকে আকৃষ্ট হবে।’

মালয়েশিয়ান ট্যুরিস্ট গাইড কাউন্সিলের সভাপতি জিমি লিওং জানান, বৃহত্তর জোহর বাহরুতে উদ্ভাবনী বিনিয়োগের প্রয়োজন। তিনি আরো জানান, অঞ্চলটিকে আলাদা করতে হলে একটি অনন্য ও সৃজনশীল পদ্ধতিতে বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, ‘জোহর বাহরুর মতো একটি শহরকে উন্নত করার যেকোনো উদ্যোগ গ্রহণ করলে দেশটির অর্থনীতির উপকার হবে, বিশেষ করে যদি এটি সিঙ্গাপুরের মতো অন্য মেগাসিটির পাশে থাকে। তবে উদ্ভাবনী বিনিয়োগের প্রয়োজন আছে, কারণ প্রতিযোগিতা এখর আর শুধু বিপণন নিয়ে নয়; এটি এখন পরিষেবার গুণমান ও অপারেশনাল দক্ষতার মতো দিকগুলোর ওপর জোর দেয়।’

লিওং আরো জানান, বর্তমানে চাকরির সুযোগ তৈরি করাটাই মুখ্য উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, ‘একটি সফল শিল্পের মূল চাবিকাঠি হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, এমন একটি ভূমিকা যা এমটিজিসিকে পালন করতে হবে। একটি খাত যদি যথেষ্টসংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয় তাকে সফল বলে মনে করা যায় না।’

লিওং আরো জানান, কভিড-১৯ মহামারীর পর পর্যটন শিল্পে একটি লক্ষণীয় পরিবর্তন রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘‌এ বিষয়ে শুধু পণ্য নয়, আমাদের প্রচুর স্থানীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিষয়ভিত্তিক অনুসন্ধানী অভিজ্ঞতা প্রদান করা গুরুত্বপূর্ণ।’