একের পর এক সুরক্ষা কেলেঙ্কারির পর উড়োজাহাজ উৎপাদনকারী জায়ান্ট বোয়িংকে মান নিয়ন্ত্রণবিষয়ক পরিকল্পনা জানাতে ৯০ দিন সময় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)। গত বছরের শেষ দিকে আলাস্কা এয়ারলাইনসের বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ফ্লাইট আকাশে ওঠার ৯ মিনিটের মধ্যে একটি দরজার প্লাগ খুলে যায়। ওই ঘটনার প্রায় দুই মাস পর মান নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে সময় বেঁধে দিল এফএএ। খবর সিএনবিসি।

এরই মধ্যে বোয়িংয়ের সুরক্ষা বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত করেছে এফএএ। সেখানে উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। চলতি মাসের শুরুতে আলাস্কা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ১২৮২-এর ওপর এ তদন্ত পরিচালিত হয়। সেখানে দরজায় ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় বোল্ট পাওয়া যায়নি। ওয়াশিংটনের ৭৩৭ ম্যাক্স কারখানায় দরজার প্লাগটি খুলে পুনরায় লাগানো হয়েছিল।

বোয়িংয়ের সর্বোচ্চ বিক্রীত মডেলগুলোর একটি ৭৩৭ ম্যাক্স। সারা বিশ্বের নামি এয়ারলাইনস সংস্থাগুলোয় রয়েছে এ মডেলের উড়োজাহাজ। বোয়িংয়ের সর্বশেষ এ নিরাপত্তা সমস্যার কারণে সংস্থাগুলো বেশ কিছুদিন ওই মডেলের উড়োজাহাজের উড্ডয়ন বন্ধ রেখেছিল।

বোয়িংয়ের সিইও ডেভ ক্যালহাউন ও কোম্পানির নিরাপত্তা ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে আলোচনার পর সম্প্রতি এফএএ কর্মকর্তা মাইক হুইটেকার বলেন, ‘বোয়িংকে অবশ্যই আরো প্রায়োগিক ও নকশায় পরিমার্জনের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।’

তিনি জানান, সুরক্ষার বিষয়ে মৌলিক পরিবর্তনে বোয়িংয়ের নেতৃত্ব থেকে দৃঢ় প্রচেষ্টার প্রয়োজন। তাদের প্রতিটি পদক্ষেপকে জবাবদিহির মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

এদিকে বোয়িংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তারা একটি ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করবে। এ বিষয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নেতৃত্বদানকারী দলটি।

বর্তমানে বোয়িং ৭৩৭-এর প্রডাকশন লাইনের অডিট করছে এফএএ। উড়োজাহাজ সংস্থাটি গত মাসে বলেছিল, নিয়ন্ত্রক সংস্থা মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত বোয়িংয়ের ৭৩৭ ম্যাক্সের পূর্বপরিকল্পিত উৎপাদন বৃদ্ধি বন্ধ করবে।

বোয়িংয়ের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপত্তা বিষয়ে কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও কর্মীদের মধ্যে যোগাযোগের ‘বিচ্ছিন্নতা’ পাওয়া গেছে।

এফএএ বলেছে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত শেষ হবে। প্রতিবেদনে চলমান অডিট ও বোয়িং কোম্পানির পরিকল্পনাগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর আগে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ জেটের পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় ৩৪৬ জন নিহত হন। ওই দুই দুর্ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করেছিল কংগ্রেস।

চলন্ত অবস্থায় প্যানেল খুলে যাওয়া ছাড়াও সম্প্রতি ৭৩৭ ম্যাক্স নাইন উড়োজাহাজের জানালায় ফাটল এবং অন্য একটি ফ্লাইটের ইঞ্জিনে আগুন লেগে যায়। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে জানুয়ারিতে বোয়িং উড়োজাহাজের অর্ডার ও ডেলিভারি কমেছে। বোয়িং গত মাসে ২৭টি উড়োজাহাজ সরবরাহ করেছে, যা সেপ্টেম্বরের পর থেকে সর্বনিম্ন। এছাড়া বোয়িং ম্যাক্স উড়োজাহাজ বিক্রি করেছে তিনটি। তবে অন্য তিনটি বিক্রি বাতিলও হয়েছে কোম্পানিটির। অন্যদিকে বোয়িংয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারবাস জানুয়ারিতে ৩০টি উড়োজাহাজ সরবরাহ করেছে। বোয়িং কর্তৃপক্ষ চলতি মাসের শুরুতে জানায়, ভুলভাবে ড্রিল করা গর্তের কারণে প্রায় ৫০টি ম্যাক্স উড়োজাহাজে সংস্কার করতে হবে।