দেশে চামড়ার বাজার দীর্ঘদিন ধরেই মন্দা। ট্যানারি মালিকদের কাছেও বকেয়া আটকে রয়েছে অনেক ব্যবসায়ীর। এতে আসন্ন কোরবানির পশুর চামড়া কেনা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন যশোরের রাজারহাটের ব্যবসায়ীরা।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহত্তম চামড়ার হাট যশোরের রাজারহাট। খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, ঝালকাঠি, রাজশাহী, পাবনা, ঈশ্বরদী ও নাটোরের বড় ব্যবসায়ীরা এখানে চামড়া বেচাকেনা করেন। সাধারণত কোরবানির পর এ হাটে ৭০-৮০ হাজার চামড়া ওঠে। কিন্তু এ বছর নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে ব্যবসায় মন্দার প্রভাব আগাম লক্ষণীয়। এর বাইরে রয়েছে কয়েক বছর ধরে চামড়ার বাজারের দরপতন। রয়েছে ট্যানারি মালিকদের কাছে থাকা বকেয়া টাকা আদায় না হওয়ার চাপও।

চামড়া ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে বকেয়া টাকা আদায় হয়নি অনেকের। রয়েছে অব্যাহত লোকসানের চাপ। যে কারণে মূলধন সংকটে রয়েছেন রাজারহাটের অধিকাংশ ব্যবসায়ী। এ অবস্থায় এবারের কোরবানির পশুর চামড়া কেনা তাদের পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে। তাদের দাবি, ট্যানারি মালিকদের কাছে যশোরের ব্যবসায়ীরা অন্তত ১০ কোটি টাকা বকেয়া পান। সরকারের ঋণ সুবিধাও পাননি তারা। এ অবস্থায় মূলধন সংকটে রয়েছেন এখানকার অধিকাংশ ব্যবসায়ী।

জানা গেছে, রাজারহাট চামড়া হাটকে ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার ছোট-বড় ব্যবসায়ী ব্যবসা করেন। ঈদ-পরবর্তী এ হাটে প্রায় শতকোটি টাকার চামড়ার ব্যবসা হয়। কিন্তু এবার অধিকাংশ ব্যবসায়ী চামড়া কেনা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

বৃহত্তর যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির দেয়া তথ্যমতে, ঢাকার কেবল একজন ট্যানারি মালিকের কাছেই রাজারহাটের কয়েকজন ব্যবসায়ীর পাওনা রয়েছে প্রায় ৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে যশোর সদরের গোপালপুরের নাজির আহমেদ দেড় কোটি কোটি, নরেন্দ্রপুরের আব্দুল ওহাবের ৬০ লাখ, ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুলের পাওনা রয়েছে ৭ লাখ টাকা। এছাড়া অন্য ট্যানারির কাছে রাজারহাট বাজারের চামড়া ব্যবসায়ী হাসানুজ্জামান হাসুর পাওনা রয়েছে ১৪ লাখ টাকা। এর বাইরে রাজারহাটের মাঝারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও অনেক ট্যানারি মালিক ও আড়তদারের কাছে বকেয়া পান। তবে সংক্রমণ রোধে সরকারের জারি করা কঠোর বিধিনিষেধের অজুহাতে বকেয়া পরিশোধ করছেন না ট্যানারি মালিকরা। 

এ বিষয়ে বৃহত্তর যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুল বলেন, ট্যানারি মালিকদের কাছে ব্যবসায়ীদের মূলধন আটকে আছে। অব্যাহত লোকসান ও বকেয়া আদায় না হওয়ায় কোরবানি-পরবর্তী চামড়ার ব্যবসা নিয়ে শঙ্কিত তারা। সংকট কাটাতে ঈদের আগে ট্যানারি মালিকদের উচিত ব্যবসায়ীদের বকেয়া পরিশোধ করা।

এদিকে করোনার কারণে চামড়া কেনা-বেচা নিয়ে শঙ্কা থাকায় এখন পর্যন্ত রাজারহাট বাজার ইজারা নেয়নি কেউ। এ বিষয়ে রাজারহাটের সদ্য সাবেক ইজারাদার হাসানুজ্জামান হাসু বলেন, এ বাজারে চামড়ার হাটের দিনে শতকোটি টাকার বেচাকেনা হয়। কিন্তু এখন কেউ চামড়া ব্যবসায় আসতে চাইছেন না। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অনেকে অন্য ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। আর এবার করোনা পরিস্থিতিতে হাটটি ইজারা পর্যন্ত নিতে সাহস দেখায়নি কেউ। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের নজর দেয়া উচিত। এখানকার পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর পাশে থাকা উচিত।