ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোয় চলতি বছর ইস্পাতের চাহিদা ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমতে পারে। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, সরবরাহ চেইনে জটিলতা এবং সস্তা আমদানির কারণে চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দিয়েছে শিল্প গ্রুপ ইউরোফার। গ্রুপটি গত বছরের অক্টোবরে প্রকাশিত আউটলুক প্রতিবেদনে চাহিদা আরো কমার কথা জানিয়েছিল।
ইউরোফারের মহাপরিচালক এক্সেল ইগারট বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে আমরা যে সতর্কবার্তা দিচ্ছিলাম সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চলেছি। জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি, সরবরাহ চেইনে জটিলতা, কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে নজিরবিহীন ব্যয় এবং তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে সস্তা দামের ইস্পাত আমদানি এ খাতের জন্য দুঃসংবাদ বয়ে আনছে।’
ইউরোফার এক বিবৃতিতে জানায়, গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ইস্পাতের মোট ব্যবহার ২০২১ সালের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ২২ লাখ টনে। নভেল করোনাভাইরাস মহামারী দেখা দেয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত এটিই সর্বনিম্ন ব্যবহার।
খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগামী বছর ইস্পাত খাত ঘুরে দাঁড়াবে। চাহিদা বাড়তে পারে ১ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে ইউরোফার বলছে, বিষয়টি অনেকটাই অনিশ্চিত। কারণ পুরো পরিস্থিতিই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানি পণ্যের দাম, মূল্যস্ফীতি ও সরবরাহ চেইনের ওপর নির্ভর করছে।
শিল্প গ্রুপটি আরো জানায়, যেসব খাতে ইস্পাতের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে, সেসব খাতে স্থিতি ফিরলেও ইস্পাতের চাহিদা এখনো দুর্বল। এসব খাতের মধ্যে অন্যতম গাড়ি তৈরি ও অবকাঠামো নির্মাণ। গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে এ দুই খাতের উৎপাদন কার্যক্রম ২০২১ সালের একই সময়ের তুলনায় ৪ শতাংশ বেড়েছে।
২০২২ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ব্লকটির মোট ইস্পাত আমদানি ১৭ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। ২০২১ সালের পর এটি আমদানি কমার প্রথম রেকর্ড। মূলত অপর্যাপ্ত চাহিদার কারণেই আমদানি কমেছে।










