চলতি মৌসুমে বিশ্বজুড়ে সয়াবিন উৎপাদন নিয়ে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ায় উৎপাদন পাঁচ বছরের সর্বনিম্নে নামতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)।
ইউএসডিএ সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড এগ্রিকালচারাল সাপ্লাই অ্যান্ড ডিমান্ড এস্টিমেটস শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয় ২০২২-২৩ মৌসুমে সয়াবিনের বৈশ্বিক উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ৩৮ কোটি ৩০ লাখ টন। জানুয়ারির চেয়ে উৎপাদন পূর্বাভাস ৫০ লাখ টন কমানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে উৎপাদন কমার কারণ হিসেবে বলা হয় আর্জেন্টিনা বিশ্বের শীর্ষ সয়াবিন উৎপাদক দেশ। বর্তমানে ভয়াবহ খরার প্রভাবে বিপর্যস্ত দেশটির কৃষিপণ্য উৎপাদন খাত। গত অর্ধশতকে এমন খরা আর কখনো দেখা যায়নি। এতে দেশটিতে সয়াবিন উৎপাদন তলানিতে নামার আশঙ্কা রয়েছে, যা বৈশ্বিক উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আর্জেন্টিনায় সয়াবিন উৎপাদন পূর্বাভাসও কমিয়েছে ইউএসডিএ। চলতি মৌসুমে লাতিন আমেরিকার দেশটি ৪ কোটি ১০ লাখ টন সয়াবিন উৎপাদন করবে। জানুয়ারিতে দেয়া পূর্বাভাসের চেয়ে যা ৪৫ লাখ ১০ শতাংশ কম। ওই সময় দেশটিতে ৪ কোটি ৫৫ লাখ টন উৎপাদনের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। দেশটির উৎপাদনও পাঁচ বছরের সর্বনিম্নে অবস্থান করবে।
তবে অন্য বিশ্লেষকরা আর্জেন্টিনায় আরো কম সয়াবিন উৎপাদন হবে বলে মনে করছেন। যেদিন ইউএসডিএ ওয়ার্ল্ড এগ্রিকালচারাল সাপ্লাই অ্যান্ড ডিমান্ড এস্টিমেটস প্রতিবেদন প্রকাশ করে, সেদিনই রোজারিও গ্রেইন এক্সচেঞ্জ সয়াবিন উৎপাদন নিয়ে পূর্বাভাস দেয়। এতে বলা হয় চলতি মৌসুমে আর্জেন্টিনায় ৩ কোটি ৪৫ লাখ টন সয়াবিন উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। জানুয়ারিতে দেয়া পূর্বাভাসে প্রতিষ্ঠানটি ৩ কোটি ৭০ লাখ টন উৎপাদনের কথা বলেছিল।
গ্লোবাল রিস্ক ম্যানেজমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ব্রায়ান হ্যারিস বলেন, ‘ইউএসডিএর মাঝে সর্বোচ্চ রক্ষণশীল হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ভালো করেই জানে উৎপাদন অনেক কমতে যাচ্ছে। কিন্তু সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার আগ পর্যন্ত তারা পূর্বাভাস ততটা কমাবে না।’
এদিকে আর্জেন্টিনায় কমলেও ব্রাজিলে রেকর্ড সয়াবিন উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা। ফলে বৈশ্বিক উৎপাদন কমার মাত্রাটা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলেও মনে করছেন তারা। পাশাপাশি তেলবীজটির বৈশ্বিক রফতানি স্থিতিশীল থাকবে। ইউএসডিএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ব্রাজিলে ১৫ কোটি ৩০ লাখ টন সয়াবিন উৎপাদন হতে পারে। গত মৌসুমের চেয়ে উৎপাদন ২ কোটি ৩৫ লাখ টন বা ১৮ শতাংশ বাড়তে পারে।
এদিকে চীনেও সয়াবিন উৎপাদন বাড়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। দেশটির সরকার তেলবীজটির আবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। উদ্দেশ্য কৃষি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে আনা। ইউএসডিএ বলছে, চলতি মৌসুমে চীন ৯ কোটি ৬৫ লাখ টন সয়াবিন আমদানি করতে পারে। দেশটিতে ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১১ কোটি ৫৩ লাখ টনে।
চীন জানায়, উৎপাদন বৃদ্ধির প্রচেষ্টা বাস্তবায়নে গত বছরই বিস্তৃত জমিতে সয়াবিন আবাদ করা হয়। আবাদি জমির পরিমাণ ছিল ১ কোটি ২ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর। ১৯৫৮ সালের পর সর্বোচ্চ আবাদ এটি।










