চলতি সপ্তাহে মূল সুদহার আরো ১ শতাংশ বাড়িয়েছে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব রাশিয়ান ফেডারেশন (সিবিআর)। ফলে দেশটিতে বর্তমান সুদহার ১৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অর্থনীতিতে যে চাপ তৈরি হয়েছে সেটি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। খবর নিউইয়র্ক টাইমস।

জুলাই থেকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর উদ্যোগ নেয়া শুরু করে সিবিআর। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত টানা পাঁচবার সুদহার বাড়ানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে সিবিআর আশা প্রকাশ করে জানায়, চলতি বছর মূল্যস্ফীতির বার্ষিক হার হয়তো ৭ দশমিক ৫ শতাংশের কাছাকাছি থাকতে পারে। এছাড়া দীর্ঘ সময়ের জন্য দেশের অর্থনীতিতে কঠোর অবস্থা বিদ্যমান থাকবে বলেও জানানো হয়। যেখানে নীতিনির্ধারকরা মূল্যস্ফীতির হার ৪ শতাংশে রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন।

সুদহার বাড়ানোর ঘোষণা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে সিবিআরের প্রধান এলভিরা নাবিউলিনা জানান, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য সুদহার বাড়ানো হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, ‘ধরুন দেশের অর্থনীতি একটি গাড়ির মতো। এখন এর সক্ষমতার চেয়ে বেশি গতিতে চালাতে গেলে ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হবে এবং বেশি দূর যেতে পারবে না।’

ইউক্রেনের সামরিক আগ্রাসন শুরুর পর থেকে দেশটির নীতিনির্ধারকরা পশ্চিমের দেশগুলোর সঙ্গে লেনদেন বন্ধের যে নিষেধাজ্ঞা সেটি নিয়ে কাজ করছেন। এছাড়া সামরিক খাতে ক্রেমলিনের ব্যয় বাড়ানোর যে আকাঙ্ক্ষা সেটি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। যুদ্ধে জড়িয়েও রাশিয়া পরিপূর্ণভাবে ব্যাংক খাতের ধস এড়াতে সক্ষম হয়েছে এবং চীন, ভারতসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়িয়েছে।

রাশিয়ার অর্থনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ এসেছে। সেটি হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে যুদ্ধে অর্থায়ন অব্যাহত রাখা। নিত্যপণ্যের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। উদাহরণস্বরূপ, রাশিয়ার ডিমের দাম এক বছরে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারায় সরকারের ব্যর্থতার কথা স্বীকারও করেছেন পুতিন। কোনো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেই সিবিআর ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেনি। তবে এর প্রভাব এখন দৃশ্যমান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, দেশটির শ্রমবাজারের সংকাপন্ন অবস্থা অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার কয়েক হাজার অধিবাসী যোগদান করেছে। সামরিক আগ্রাসনের পর কয়েক লাখ রাশিয়ান দেশ ত্যাগের কারণে শ্রম সংকট তৈরি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এলভিরা নাবিউলিনা জানান, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের সংকটে প্রভাবিত হয়েছে ব্যাংক।

আগামী বছর রাশিয়া অনুরূপ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশটির অর্থনীতিবিদরা। সম্প্রতি ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। যুদ্ধে অর্থায়নের জন্য আগামী বছর সামরিক খাতের বরাদ্দ দেশটির মোট ব্যয়ের এক-তৃতীয়াংশে পৌঁছবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।