মহামারী ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিশ্বের শীর্ষ রফতানিকারক দেশগুলোতে ঘাটতির মুখে রয়েছে গম উৎপাদন।
এসব দেশের কৃষকরা বেশি লাভের আশায় উৎপাদিত গম বিক্রি না করে মজুদ করেছেন।
ফলে কৃষিপণ্যটির বৈশ্বিক দাম বেড়ে কয়েক বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।
এমন পরিস্থিতিতে গমের সরবরাহ নিশ্চিতে হিমশিম খাচ্ছেন এশিয়ার ক্রেতারা।
এশিয়ার মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।
খবর রয়টার্স।
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গম রফতানি কেন্দ্র কানাডা ও ইউরোপ।
সম্প্রতি তীব্র দাবদাহে এসব অঞ্চলে গমের আবাদ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এমন বৈরী আবহাওয়া ছিল অপ্রত্যাশিত।
এতে ঘাটতির মুখে পড়েছেন এশিয়ান ক্রেতারা।
গমের সরবরাহ ঘাটতি ময়দা কারখানাগুলোতেও উৎপাদন হ্রাসের আশঙ্কা তীব্র করে তুলছে।
চাহিদা ও সরবরাহে ভারসাম্যহীনতার মধ্যেই এশিয়াজুড়ে গমের বাজারে প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছে চীনসহ বিশ্বের বড় গম উৎপাদনকারী দেশগুলো।
প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে চলতি বছর এসব দেশ উৎপাদনের পাশাপাশি গম আমদানিও শুরু করেছে।
বিশ্বের দ্বিতীয় গম আমদানিকারক ইন্দোনেশিয়ার ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে গমের দাম আশঙ্কার চেয়েও অনেক বেশি মাত্রায় বাড়ছে।
এ কারণে চলতি বছর গম প্রক্রিয়াজাত গত বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে।
গমের বৈশ্বিক রফতানির এক-তৃতীয়াংশই আসে এশিয়া মহাদেশে।
বৃহৎ এ আমদানিকারক অঞ্চলটির বেশির ভাগ দেশের মাথাপিছু আয় তুলনামূলক কম।
ফলে গমের স্বল্প মূল্যবৃদ্ধিও দ্রুতই এসব দেশে প্রভাব ফেলে।
এছাড়া প্রধান বাজারগুলোর থেকে দূরত্ব বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত সরবরাহ ব্যয়ও এশিয়ার বাজারকে প্রভাবিত করে।
কানাডাসহ প্রধান রফতানিকারক দেশগুলো থেকে প্রতি টন গম ক্রয়ের ক্ষেত্রে এশিয়ার ক্রেতাদের ৩৫ ডলার করে অতিরিক্ত জাহাজীকরণ ব্যয় মেটাতে হয়।
একই উৎস থেকে আমদানিতে উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোকে যে পরিমাণ জাহাজীকরণ ব্যয় বহন করতে হয় এশিয়ার দেশগুলোকে তার দ্বিগুণ ব্যয় বহন করতে হয়।
এদিকে ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে অন্যান্য ব্যয় সংবেদনশীল ভোক্তা দেশগুলোও বিপাকে পড়েছে।
গত মাসে গমের অন্যতম শীর্ষ ক্রেতা দেশ মিসরে ৪৪ বছর পর প্রথমবারের মতো গম থেকে উৎপাদিত রুটির দাম বাড়ানো হয়।
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে এ খাতে সরকারি ভর্তুকি হ্রাস করা হয়েছে।
সর্বোপরি প্রধান রফতানিকারক দেশগুলোতে উৎপাদন ঘাটতি এশিয়াসহ আমদানিকারক অঞ্চলগুলোতে বড় ধরনের সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কানাডা ও রাশিয়া বিশ্বের শীর্ষ গম রফতানিকারক দেশ।
বড় কলেবরে আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এসব দেশের গম উৎপাদন পূর্বাভাস কমিয়ে এনেছে মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)। সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, চলতি উৎপাদন মৌসুমে কানাডা ও রাশিয়ার গম উৎপাদন সম্মিলিতভাবে দুই কোটি টন কমতে পারে।
এর ফলে গমের বৈশ্বিক বাজার আরো বেশি অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে।
গত মাসে ইউক্রেন ও ফ্রান্সে গমের রফতানি মূল্য প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
আকাশছোঁয়া দামের কারণে এসব দেশের গম ক্রয়ে অনীহা তৈরি হয়েছে ক্রেতা দেশগুলোর মাঝে।
অন্যদিকে অতিরিক্ত রফতানি শুল্কের কারণে রাশিয়ার গম রফতানিতে শ্লথগতি দেখা দিয়েছে।
আগস্টে দেশটির রফতানি কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ।
এদিকে সরবরাহ সংকটের কারণে এশিয়ার দেশগুলোতে গমের মজুদ হ্রাসের হারও প্রকট হচ্ছে। চলতি বছর অস্ট্রেলিয়ায় উৎপাদন বৃদ্ধি এশিয়ার ক্রেতাদের মাঝে আশা জাগালেও দেশটির কৃষকরা দাম বাড়ার প্রত্যাশায় বিক্রি বন্ধ রেখেছেন।










