চলতি বছরের মার্চ মাসে বাংলাদেশ থেকে বিশ্ববাজারে ৩৪৮ কোটি ৭ লাখ ২০ হাজার ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। আগের বছরের একই মাসের তুলনায় যা ১৮ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ কম। ২০২৫ সালের মার্চে রফতানি হয় ৪২৪ কোটি ৮৬ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পণ্য

আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদন ইপিবি দাবি করেছে, মাসভিত্তিক হিসাবে, বাংলাদেশের পণ্য রফতানি কার্যক্রম মোটের ওপর স্থিতিশীল ছিল। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে রফতানি হয়েছে ৩৪৮ কোটি ডলারের। যা ফেব্রুয়ারির ৩৫০ কোটি ডলারের তুলনায় সামান্য কম; হ্রাসের হার মাত্র শূন্য দশমিক ৪২ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে মোট রফতানি হয়েছে ৩ হাজার ৫৩৮ কোটি ডলারের পণ্য। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের ৩ হাজার ৭১৯ কোটি ডলারের তুলনায় ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ মাঝারি মানের সংকোচন বা হ্রাস নির্দেশ করে। বছরভিত্তিক তুলনায়, ২০২৫ সালের মার্চে যেখানে ৪২৫ কোটি ডলারের রফতানি হয়েছিল, ২০২৬ সালের মার্চে তা দাঁড়িয়েছে ৩৪৮ কোটি ডলারে।

ইপিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যেহেতু বাংলাদেশের রফতানি কার্যক্রম মূলত তৈরি পোশাক খাতনির্ভর, তাই এ খাতের সামান্য পরিবর্তনও সামগ্রিক রফতানির ধারায় বড় প্রভাব ফেলে। বছরভিত্তিক হিসাবে তৈরি পোশাক রফতানি ১৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ কমেছে। ২০২৫ সালের মার্চে যা ছিল ৩৪৫ কোটি ডলার, ২০২৬ সালের মার্চে তা নেমে এসেছে ২৭৮ কোটি ডলারে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে এই খাতে মোট ২ হাজার ৮৫৮ কোটি ডলারের রফতানি হয়েছে, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ের ৩ হাজার ২৪ কোটি ডলারের তুলনায় ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ কম।

ইপিবি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রধান রফতানি খাতগুলোর মধ্যে অধিকাংশেই গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে এর ব্যতিক্রম ছিল হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং প্রকৌশল পণ্য; যেগুলোতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে।

সামগ্রিক রফতানি পরিস্থিতি একাধিক বৈশ্বিক প্রভাবক দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে ইপিবি বলেছে, এর মধ্যে রয়েছে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, যেমন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান দ্বন্দ্ব, যা জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছে। এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মতো প্রধান রপ্তানি গন্তব্যগুলোতে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়েছে এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। এসব পরিস্থিতির কারণে চাহিদার গতি ধীর হয়ে পড়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে রফতানি আদেশ স্থগিত বা বাতিল হয়েছে।