এশিয়ার স্পট মার্কেটে গত এক সপ্তাহে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম আরো এক ধাপ কমেছে। অঞ্চলটিতে শীতের তীব্রতা কম থাকার পাশাপাশি জ্বালানির মজুদ ঊর্ধ্বমুখী। ফলে এলএনজির চাহিদা তুলনামূলক কম। এ কারণেই বাজারদরে নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। খবর রয়টার্স।

শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাক্কলন অনুযায়ী, উত্তর এশিয়ার দেশগুলোয় মার্চে সরবরাহের জন্য প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির মূল্য স্থির হয়েছে ১৭ ডলারে। আগের সপ্তাহের তুলনায় দাম কমেছে দেড় ডলার বা ৮ দশমিক ১ শতাংশ। এছাড়া এপ্রিলে সরবরাহের জন্য প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির প্রাক্কলিত মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৬ ডলার ৫০ সেন্টে।

তথ্য সেবাদাতা ও বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের রিহানা রশদি বলেন, চলতি বছরের এখন পর্যন্ত এশিয়ার দেশগুলোয় এলএনজির পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। এর বিপরীতে শীতের প্রভাবে যে পরিমাণ চাহিদা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল তা হয়নি। উল্টো আগামী সপ্তাহে চাহিদা আরো কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণেই জ্বালানিটির দাম অব্যাহত কমেছে। সাধারণত ইউরোপের তুলনায় এশিয়ার বাজারে বেশি দামে এলএনজি বিক্রি হয়। কিন্তু গত বছরজুড়ে আকর্ষণীয় মূল্যছাড়ের কারণে দামের এ ব্যবধান পুরোপুরি উল্টে গেছে।

গত বছরের আগস্টে রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছিল এলএনজির দাম। কিন্তু ডিসেম্বরের শেষ দিকে তা কমতে শুরু করে। চলতি বছরের এখন পর্যন্ত দাম কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। ২০২১ সালের আগস্টের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে অবস্থান করছে জ্বালানিটির বাজারদর।

এদিকে দাম কমে যাওয়ায় এশিয়ার কিছু দেশে এলএনজি আমদানির আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে থাইল্যান্ডের পিটিটি, বাংলাদেশের আরপিজিসিএল এবং সিএনওওসি চলতি সপ্তাহে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কার্গো কেনার পরিকল্পনা করছে।

ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান টলেট প্রিবনের এলএনজি এশিয়া বিভাগের প্রধান টোবিয়াস ডেভিস বলেন, অন্যতম শীর্ষ আমদানিকারক জাপানে এলএনজির পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে শীত আরো কমে আসতে পারে। ফলে চাহিদা প্রত্যাশার তুলনায় কমই থাকবে।

বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের সমন্বিত তথ্য বলছে, এশিয়ার দেশগুলো জানুয়ারি মাসে ২ কোটি ৪০ লাখ টন এলএনজি আমদানি করেছে। গত বছরের জানুয়ারির পর এটিই সর্বোচ্চ আমদানি। ডিসেম্বরে আমদানির পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৩৭ লাখ ৪০ হাজার টন। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আমদানি বেড়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার টন। বিপরীতে ইউরোপের দেশগুলোয় আমদানি কমেছে। জানুয়ারিতে আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৪ লাখ ২০ হাজার টন। অথচ ডিসেম্বরে ব্লকটি ইতিহাসের সর্বোচ্চ এলএনজি আমদানি করেছিল। ওই মাসে আমদানির পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৩৫ লাখ ১০ হাজার টন।

ব্যাপক চাহিদা তৈরি হওয়ায় গত বছর এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে ইউরোপের তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ইউরোপ স্পট মার্কেট থেকে বেশি দাম দিয়ে হলেও সরবরাহ নিশ্চিত করে। ফলে এশিয়ায় সরবরাহ নিম্নমুখী হয়ে পড়ে। কারণ রফতানিকারক দেশগুলো বেশি দাম পাওয়ায় ইউরোপের বাজারে বিক্রি বাড়িয়েছে। ইউরোপে সরবরাহ বাড়ানোর ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ এলএনজি রফতানিকারক দেশ যুক্তরাষ্ট্র।

তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইউরোপে এলএনজির চাহিদা কমেছে। পর্যাপ্ত মজুদ ও শীতের তীব্রতা কম থাকায় দেশটিকে বেশি এলএনজি আমদানি করতে হয়নি। ফলে উত্তর এশিয়ার দেশগুলোয় সরবরাহের জন্য স্পট এলএনজির দাম কমে গেছে।