ষষ্ঠবারের মতো পণ্যের দাম কমাতে শুরু করেছে সুপারমার্কেট চেইন মরিসনস। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি ক্রেতা ধরে রাখতে সম্প্রতি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য টেলিগ্রাফে প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, ক্রেতারা যেন প্রতিযোগী জার্মান প্রতিষ্ঠান আলদি ও লিডলে স্থানান্তরিত না হয়, সেজন্য দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মরিসনস। সুপারমার্কেট চেইনটি ৪৭টি উচ্চক্যাটাগরির পণ্যের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মিনস, টমেটো, মাখন, স্কোয়াশ, সিরিয়াল এবং পিটা ব্রেড ও স্কটিশ ডিমের মতো পিকনিক ক্ল্যাসিকস পণ্য।
মরিসনস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির পণ্যের গড় মূল্য প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে। যেমন চারটি স্কটিশ ডিমের একটি প্যাকেটের দাম ২ দশমিক ৭৫ থেকে ২ দশমিক ১০ পাউন্ডে নেমে এসেছে। এছাড়া ৪০০ গ্রাম মধু রস্ট হ্যামের একটি প্যাকেটের দাম ৩ দশমিক ৪৯ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৭৫ পাউন্ড।
প্রতিবেদন বলছে, সুপারমার্কেটটির বাজার হিস্যা ক্রমেই কমছে। এটি বাড়ানোর জন্য পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দাম কমানোর সর্বশেষ সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়েছে। সম্প্রতি আলদি ও লিডলের কাছে বাজার হিস্যা হারাতে শুরু করেছে মরিসনস। কেননা মূল্যস্ফীতির মধ্যে গ্রাহকরা জীবনযাত্রার উচ্চমুখী ব্যয় মোকাবেলায় স্বল্প দামে সেরা পণ্য কেনার চেষ্টা করছে।
বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কান্তারের মতে, মরিসনসের বাজার হিস্যা বছরের শুরুতে প্রায় ১০ থেকে কমে এখন ৮ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। গত বছর মরিসনসকে ছাড়িয়ে যুক্তরাজ্যের চতুর্থ বৃহত্তম সুপারমার্কেট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে আলদি। যুক্তরাজ্যে বর্তমানে বাজার হিস্যার হিসাবে মরিসনসের অবস্থান পঞ্চম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, মরিসনসকে ছাড়িয়ে যেতে পারে আরেক সুপারমার্কেট কোম্পানি লিডল। গত এক বছরে জার্মান ডিসকাউন্টার প্রতিষ্ঠানটির বাজার হিস্যা দ্রুত বেড়েছে। ২০২২ সালের শুরুতে ৬ দশমিক ২ থেকে বেড়ে বর্তমানে এটি ৭ দশমিক ৭ শতাংশে উত্তীর্ণ হয়েছে।
ক্রেতা পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশায় মরিসনসের সিইও ডেভিড পটস গত মাসে ক্রেতাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এ বছর ডিফ্লেশন ডিভিডেন্ডস বা লভ্যাংশ থেকে উপকৃত হবে ক্রেতারা। কেননা কিছু উপাদানের দাম এরই মধ্যে কমতে শুরু করেছে।
মরিসনস জানিয়েছে, পণ্যের দাম কমানোর সর্বশেষ সিদ্ধান্ত কমপক্ষে আট সপ্তাহব্যাপী অব্যাহত থাকবে। ফলে ক্রেতারা কম দামে আরো বেশি সময় ধরে পণ্য কিনতে পারবে। জীবনযাপনের খরচ মোকাবেলায় যা কিছুটা সহায়ক হবে। অবশ্য চলতি মাসের শুরুর দিকে দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, মরিসনস জানুয়ারিতে প্রথম দাম কমানোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি আইটেমের দাম গোপনে বাড়িয়েছিল। ওই পণ্যগুলো প্রকৃত দামের তুলনায় এখনো অত্যন্ত ব্যয়বহুল। মরিসনসের প্রধান গ্রাহক ও বিপণন কর্মকর্তা র্যাচেল আইয়ার বলেন, ‘সাম্প্রতিক দাম কমানোর মধ্যে পিকনিকের কিছু জিনিসপত্র রয়েছে। আমাদের গ্রাহকরা যাতে উষ্ণ আবহাওয়া থেকে সর্বাধিক উপকৃত হতে পারে সেক্ষেত্রে আমরা ফ্রিজ ও ক্যাবিনেটের মতো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামও কমিয়েছি।’
মরিসনস বাজার হিস্যা বাড়াতে যেমন দাম কমানোর চেষ্টা করছে, একই সঙ্গে ২০২১ সালে প্রাইভেট ইকুইটি কোম্পানি ‘ক্লেটন’, ‘ডাবিলিয়ার অ্যান্ড রাইস’ অধিগ্রহণের ফলে অবশিষ্ট ৫৯০ কোটি পাউন্ডের ঋণও বহন করছে। ক্রমবর্ধমান সুদের হার এ ঋণ পরিশোধ ও পরিষেবা প্রদানের খরচকে আরো চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে।










