দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে আবারো অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে পেঁয়াজের বাজার। লকডাউনের মাঝেও বাড়ছে পণ্যটির দাম। পাঁচদিনের ব্যবধানে বন্দরে পেঁয়াজের পাইকারি দাম বেড়েছে কেজিতে প্রায় ৭ টাকা। এতে বিপাকে পড়েছেন পাইকার ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
হিলি স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বন্দর দিয়ে ইন্দোর ও নাসিক জাতের পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত আছে। তবে দাম আগের তুলনায় বেশি। পাঁচদিন আগে ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ বন্দরে ২৪-২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল। শুক্রবার তা বেড়ে ৩১-৩২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। এছাড়া নাসিক জাতের পেঁয়াজ ২৭-২৯ টাকায় বিক্রি হলেও তা বেড়ে ৩৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকার ইসমাইল আলী বলেন, আমরা হিলি বন্দর থেকে পেঁয়াজ কিনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে সরবরাহ করে থাকি। কিন্তু যেভাবে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে তাতে বিপাকে পড়েছি। লকডাউন এবং আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে মোকামগুলোতে পেঁয়াজের চাহিদা আগের তুলনায় বেড়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে পেঁয়াজ ক্রয় করে মোকামে পাঠাচ্ছি। তবে ক্রয়ের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছি।
হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, লকডাউন ঘিরে দেশের বাজারে পেঁয়াজের চাহিদা বেড়েছে। এর মধ্যে শুক্রবার বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যায়। এ কারণে দাম বেড়েছে। যে দেশী পেঁয়াজ মোকামে কয়েকদিন আগে বিক্রি হয়েছিল মণপ্রতি দেড় হাজার থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়, তা বেড়ে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক নাজমুল আলম চৌধূরী বলেন, বন্দর দিয়ে আগে যেখানে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত আমদানীকৃত পণ্যবাহী ট্রাক দেশে প্রবেশ করত, এখন সেখানে বিকাল ৪টা পর্যন্ত পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করছে। এর মধ্যে পাথরসহ অন্যান্য পণ্যের ব্যাপক যানজটের কারণে স্বাভাবিক গতিতে পেঁয়াজ আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণেই দাম বাড়ছে।
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত থাকলেও আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমেছে। মঙ্গলবার বন্দর দিয়ে ২৫টি ট্রাকে ৬২৬ টন পেঁয়াজ আমদানি হলেও বুধবার বন্দর দিয়ে ১৬টি ট্রাকে ৪১৮ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। বৃহস্পতিবার তা আরো কমে যায়। এদিন ১৩টি ট্রাকে ৩৭০ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। পেঁয়াজ যেহেতু কাঁচামাল, তাই কাস্টমসের সব প্রক্রিয়া শেষ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ অতি দ্রুত খালাস করে তা ব্যবসায়ীদের কাছে বুঝিয়ে দিচ্ছে।










