রিনিউয়েবল এনার্জি বা জ্বালানি রূপান্তরের জন্য সমন্বিত ও সাহসী উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ। বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকার এগিয়ে না এলে এ খাতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, বৈশ্বিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান প্রায় ৪৯ শতাংশ। শুধু বিদ্যুৎ খাতে এ হার প্রায় ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ। অথচ বাংলাদেশে জ্বালানি খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ মাত্র আড়াই থেকে ৩ শতাংশ এবং মোট স্থাপিত সক্ষমতায় এর অংশ প্রায় ৫ শতাংশ। অর্থাৎ আমরা এখনও খুবই পিছিয়ে আছি। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক। এটি বাস্তবতা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কীভাবে সেখানে পৌঁছাব?

সরকারের নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সোলার হোম সিস্টেম ও রুফটপ সোলার নিয়ে অনেক পরিকল্পনা, বড় বাজেট এবং উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজেটে শূন্য করের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে বিএসআরইএর ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা বিষয়টি তুলে ধরছি। সোলার জেনারেশন সেট ও ক্যাপিটাল মেশিনারি ১%-এ আমদানি করতে পারতাম এখন ১৭ শতাংশ হয়েছে। এখানে ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) যুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে—এটি বোঝা যায়। কিন্তু এআইটি কেন দিতে হবে? সরকার একদিকে বলছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে ১০ বছরের কর-সুবিধা দেয়া হবে, আবার অন্যদিকে অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হচ্ছে। এ ধরনের দ্বৈত নীতি বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করছে। আমরা যদি বিনিয়োগ করতে চাই, তাহলে কোথায় করব? কোন প্রকল্পে করব? এর স্পষ্ট উত্তর কেউ দিতে পারবে না।

রুফটপ সোলারের ক্ষেত্রে সরকারের নীতিকে বাধা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকরা নিজেদের অর্থে রুফটপ সোলার স্থাপন করছিলেন। কিন্তু সেখানেও ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ২ শতাংশ এআইটি আরোপ করা হয়েছে। এতে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, কিছুক্ষণ আগে একটি উপস্থাপনায় দেখানো হয়েছে যে জ্বালানির তিনটি বড় উৎস হলো কয়লা, গ্যাস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি। কিন্তু কয়লা উত্তোলনের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই। গ্যাস ব্লকের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলেও কবে উৎপাদন শুরু হবে বা কতটুকু গ্যাস পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। অন্যদিকে সৌর ও বায়ুশক্তির যে সম্ভাবনা রয়েছে, সেটিও নীতিগত জটিলতায় আটকে দেয়া হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে জ্বালানি রূপান্তর বা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কখনোই সম্ভব নয়।

সোলারের দাম বেশি—এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে বিএসআরইএ সভাপতি বলেন, অনেকেই বলেন সোলারের দাম বেশি। কিন্তু সরকার যদি কর বাড়িয়ে দেয়, তাহলে সোলারের দাম তো বাড়বেই। এসব বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না। তাই সমন্বিত উদ্যোগ এবং সাহসী সিদ্ধান্ত ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর সম্ভব নয়। এ জন্য দ্রুত ও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার প্রয়োজন। আর সরকার যদি এগিয়ে না আসে, তাহলে এ বিষয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। কারণ জ্বালানি রূপান্তর এখন সময়ের দাবি।