বৈশ্বিক বেকারত্বের হার কভিড-১৯ মহামারীর আগের চেয়ে কমেছে। গেল বছর তা ৫ দশমিক ৩ থেকে কমে ৫ দশমিক ১ শতাংশে নেমে এসেছিল। চলতি বছর বেকারত্ব বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও) প্রক্ষেপণ করছে, প্রায় ২০ লাখ লোক চলতি বছর চাকরি খুঁজবে। বৈশ্বিক বেকারত্বের হার বেড়ে ৫ দশমিক ২ শতাংশ হবে। খবর ইউরো নিউজ।

আইএলও সম্প্রতি ‘‌ওয়ার্ল্ড এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল আউটলুক ট্রেন্ডস: ২০২৪’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, বেকারত্ব ও জব গ্যাপ রেটের পার্থক্য মহামারীপূর্ব সময়ের তুলনায় কমেছে। জব গ্যাপ রেট বলতে চাকরি খুঁজছে এমন বেকারদের পরিসংখ্যানকে বোঝায়।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) স্ট্যাটিসটিক্যাল অফিসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও একই ধরনের পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। ইইউয়ের তথ্যমতে, গত বছরের নভেম্বরে বেকারত্বের হার কমে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে, যা আগের মাসের ৬ দশমিক ৫ ও ২০২২ সালের নভেম্বরের ৬ দশমিক ৭ শতাংশের চেয়ে কম।

আইএলওর প্রতিবেদনে গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে, চলতি বছর মূল্যস্ফীতি এবং এর বিপরীতে আয় কমার কারণে জি২০ভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের জীবনমান তেমন বাড়বে না। দ্রুত জীবনমান উন্নয়নের প্রত্যাশাও করা যাচ্ছে না।

আইএলওর মহাপরিচালক গিলবার্ট হংবো জানিয়েছেন, জীবন-যাপনের নিম্নমান ও দুর্বল উৎপাদন মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি যৌথভাবে বৈষম্য বৃদ্ধি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত করবে। ব্যাপক আকারে সামাজিক ন্যায়বিচার ছাড়া কখনই অর্থনীতির টেকসই পুনরুদ্ধার সম্ভব না। মহামারীকালের অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য যে কাঠামোগত পুনরুদ্ধার দরকার তার বিপরীতে এ সামাজিক ভারসাম্যহীনতা স্থায়ী সমস্যায় রূপান্তর হচ্ছে।

উচ্চ এবং নিম্ন আয়ের দেশগুলোর পার্থক্য পর্যবেক্ষণ করেছে আইএলও। গত বছর উচ্চ আয়ের দেশগুলোয় জব গ্যাপ রেট ছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ। এর বিপরীতে নিম্ন আয়ের দেশগুলোয় জব গ্যাপ রেট ছিল ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। উচ্চ আয়ের দেশগুলোয় বেকারত্ব ছিল ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। এর বিপরীতে নিম্ন আয়ের দেশে বেকারত্ব ছিল ৫ দশমিক ৭ শতাংশ।

চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী কর্মজীবীর সংখ্যা ২০২৩ সালে ১০ লাখ বেড়েছে। একই সময় মৃদু দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী কর্মজীবীর সংখ্যা বেড়েছে ৮৪ লাখ। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গত বছর আয় বৈষম্য বিস্তৃত হয়েছে। অনানুষ্ঠানিক কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তির সংখ্যা চলতি বছর ২০২৩ সালের ৫৮ শতাংশের সমান। লিঙ্গ ও বয়স বৈষম্য কমলেও তা এখনো বিলোপ হয়নি। মহামারীর পর অধিকসংখ্যক নারী চাকরিতে প্রবেশ করলেও লিঙ্গবৈষম্য এখানো রয়েছে। বিশেষ করে উদীয়মান অর্থনীতির দেশে এ বৈষম্য বেশি।

আইএলওর মহাপরিচালক গিলবার্ট হংবো বলেছেন, দক্ষ জনশক্তির অভাব রয়েছে। কারখানাগুলোয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় ডিজিটাল মনোপোলি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোয় এ সমস্যা বাড়ছে। আবার বড় কারখানাগুলো কম উৎপাদন করে এমন কারখানার ওপর প্রাধান্য বিস্তার করছে। চ্যালেঞ্জটা ব্যক্তি ও ব্যবসা উভয়ের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এটাকে দ্রুত ও কার্যকরভাবে মোকাবেলা করা জরুরি।