বিশ্বজুড়ে কয়েক বছর ধরে কভিড-১৯, দুর্বল চাহিদাসহ নানা কারণে অপরিশোধিত ইস্পাতের উৎপাদন কমছে। বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলো যখন ইস্পাত উৎপাদনে পিছিয়ে পড়ছে তখন বিশ্ববাজারে এ খাতে হিস্যা বাড়ছে ভারতের। উৎপাদন বৃদ্ধিতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। কয়েক বছর ধরে প্রবৃদ্ধিও এসেছে ধারাবাহিকভাবে। খবর মার্কেট ইনসাইডার।
ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশন জানায়, গত বছর আধা পরিশোধিত, ইনগট ও তরল ইস্পাতসহ সব ধরনের ইস্পাতের বৈশ্বিক উৎপাদন কমে ১৮৯ কোটি টনে নেমে যায়। ২০২১ সালে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৯৬ কোটি টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদন কমেছে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ।
বিশ্বের শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদক দেশ চীন। আন্তর্জাতিক বাজারে ইস্পাতের দামে উত্থান-পতনে দেশটির ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। টানা দুই বছর ধরে দেশটিতে ইস্পাত উৎপাদন কমছে। শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় এ দুই বছরে শুধু ভারতের উৎপাদনই বেড়েছে। এর মধ্যে গত বছর দেশটির উৎপাদন ১১ কোটি ৮২ লাখ টন থেকে বেড়ে ১২ কোটি ৫৩ লাখ টনে উন্নীত হয়।
২০২২ সালজুড়ে চীন ১০১ কোটি ৮০ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন করে। এর আগের বছরের তুলনায় উৎপাদন ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে যায়। তবে উৎপাদন কমলেও দেশটি অন্যান্য দেশের তুলনায় এখনো সবচেয়ে বেশি ইস্পাত উৎপাদন করছে। এমনকি প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে যে পরিমাণ ইস্পাত উৎপাদন হয় তার অর্ধেকেরও বেশি আসে চীন থেকে। ২০০০ সালের পর থেকে বৈশ্বিক উৎপাদনে উত্থান-পতনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে দেশটি।
তবে বর্তমানে চীনে ইস্পাত উৎপাদন কমছে। আর সে সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে ভারত। ২০১৯ সালে দেশটি জাপানকে পেছনে ফেলে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদকে পরিণত হয়। তবে প্রথম ও দ্বিতীয় শীর্ষ দেশের মধ্যে উৎপাদনে ব্যবধান ছিল অনেক বেশি। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত বর্তমানে ইস্পাত উৎপাদনে নেতৃস্থানীয় হয়ে উঠছে। অনেকেই মনে করছেন, আগামী বছরগুলোয় ভারতে ইস্পাতের চাহিদা অব্যাহত বাড়বে। আর এক্ষেত্রে রসদ জোগাবে ক্রমবর্ধমান অবকাঠামো উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ।
ভারতে এখনো মাথাপিছু ইস্পাত ব্যবহারের হার অনেক কম, যা বৈশ্বিক গড়ের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। ২০২৫ সালের মধ্যে জিডিপিতে উৎপাদন খাতের অবদান ২৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ভারত। এ খাতের প্রভাবে প্রতি বছর ৩০ কোটি টন ইস্পাত উৎপাদন হবে বলে আশাবাদী খাতসংশ্লিষ্টরা।
ইন্ডিয়ান স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছর দেশটিতে ইস্পাতের চাহিদা ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে। এ সময় উৎপাদন হতে পারে ১২ কোটি ৮৮ লাখ ৫০ হাজার টন। গত অর্থবছর উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ৯৮ লাখ ৬০ হাজার টন। আগামী বছর ইস্পাতের চাহিদা ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়তে পারে বলে আশাবাদী স্টিল অ্যাসোসিয়েশন। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১৩ কোটি ৬৯ লাখ ৭০ হাজার টনে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকার বর্তমানে অবকাঠামো উন্নয়ন ও ভবন নির্মাণ খাতের উন্নয়নে বেশি মনোযোগী। বিষয়টি চাহিদা প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশন জানায়, গত মে মাসে বিশ্বজুড়ে ইস্পাত উৎপাদন ৫ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ১৬ লাখ টনে। গত বছরের একই সময় উৎপাদন হয়েছিল ১৬ কোটি ৯৯ লাখ টন। উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে এবারো চীনকেই দায়ী করা হচ্ছে।
মে মাসে চীন ৯ কোটি ১ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন কমেছে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। মে মাসে ভারত উৎপাদন করেছে ১ কোটি ১২ লাখ টন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটির উৎপাদন বেড়েছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে দেশটির উৎপাদন ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৫ কোটি ৬৪ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। চলতি বছরের এখন পর্যন্ত ভারতে ইস্পাতের চাহিদা প্রবৃদ্ধি অব্যাহত আছে। ঠিক একই সময় চাহিদা কমেছে চীনে।










