বিশ্বজুড়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনে সচেতনতার সঙ্গে সঙ্গে তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে পরিচিত এলএনজির ব্যবহার বাড়ছে দেশে দেশে। এ কারণে বিশ্বের অনেক দেশ এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। এ ধারাবাহিকতায় ২০১৯ হতে যাচ্ছে বৈশ্বিক এলএনজি খাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বিনিয়োগের বছর। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (ইআইএ) এরই মধ্যে চলতি বছরকে এ খাতে শীর্ষ বিনিয়োগের বছর হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। খবর অয়েলপ্রাইস ডটকম ও রয়টার্স।
সম্প্রতি জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত
এলএনজি উৎপাদক ও গ্রাহক সম্মেলনে ইআইএর প্রধান ফাতিহ বিরল বলেন, বছরের
শুরু থেকেই এলএনজি খাতে বৈশ্বিক বিনিয়োগ ছিল সবসময়ের সর্বোচ্চে। এরই মধ্যে এ খাতে
বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রথমবারের মতো ৫ হাজার কোটি ডলার (বিনিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের
ভিত্তিতে) ছাড়িয়েছে।
বিশ্বব্যাপী চলতি বছর ১৭ হাজার কোটি
ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস তরলীকরণে বিনিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যা
এর আগের সর্বোচ্চ তরলীকরণের চেয়ে ঢের বেশি। এর আগে ২০০৫ সালে
সাত হাজার কোটি ঘনমিটার প্রাকৃতিক
গ্যাস তরলীকরণের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিল।
বৈশ্বিক এলএনজি খাতে বিনিয়োগ রেকর্ডের
ক্ষেত্রে অন্যতম ভূমিকা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। দেশ দুটি উৎপাদন বাড়াতে এ
খাতে বিনিয়োগে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া এশিয়ার শিল্প খাতে জ্বালানিটির চাহিদা
বেড়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলের দেশগুলো এলএনজি আমদানি বাড়িয়েছে, যা
রেকর্ড বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বৃহত্তর ভূমিকা রেখেছে।
বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত এলএনজি
খাতে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে চীনে। বিশ্বের শীর্ষ আমদানিকারক দেশ জাপানেও
জ্বালানিটির আমদানিতে চাঙ্গা ভাব বজায় ছিল। ফাতিহ বিরল বলেন, জাপান
কোনো কারণে এ খাতে বিনিয়োগ কমিয়ে দিলে চীন চলে আসবে শীর্ষে।
খাতসংশ্লিষ্টরা পূর্বাভাস করছেন, আগামী
পাঁচ বছরে বিশ্বের মোট এলএনজি চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ থাকতে পারে চীনের একার দখলে। এ সময়ে দেশটি জাপানকে ছাড়িয়ে
বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি আমদানিকাররক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ায়
বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানেও এলএনজি আমদানি বাড়তির দিকে রয়েছে।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরের ইআইএর একটি
প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেখানে বলা হয়,
চলতি বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি
রফতানি সক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়বে। এ সময়ের মধ্যে দেশটির এলএনজি রফতানি
সক্ষমতা দাঁড়াবে দৈনিক ৮৯০ কোটি ঘনফুটে,
যা যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ এলএনজি
রফতানিকারক দেশে পরিণত করবে। প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবে যথাক্রমে কাতার ও
অস্ট্রেলিয়া। এদিকে ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি রফতানি আরো বেড়ে দৈনিক
১ হাজার ৭০০ কোটি ঘনফুটে উন্নীত হবে।
‘কানাডা এলএনজি’ প্রকল্পটি পূর্ণ সক্ষমতায় এলে দেশটির বার্ষিক এলএনজি উৎপাদন সক্ষমতা ২
কোটি ৮০ লাখ টনে উন্নীত হবে। ব্রিটেনের তেল ও গ্যাস জায়ান্ট কোম্পানি শেল ৩ কোটি
১০ লাখ ডলারের এ প্রকল্পটির নেতৃত্বে রয়েছে। এতে পেট্রোনাস, পেট্রোচায়না, মিত্সুবিশি
ও কোগাসের শেয়ার রয়েছে।
এদিকে এলএনজির শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশের
দৌড়ে শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে কাতার। দেশটি উত্তরাঞ্চলীয়
গ্যাসক্ষেত্রগুলোয় নতুন কূপ খননে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছে। কাতার এলএনজি
রফতানি বর্তমানের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বাড়িয়ে বছরে ১ কোটি ১০ লাখ টনে উন্নীত করার
চেষ্টা করছে।
এদিকে ইউরোপের দেশগুলোও আগের তুলনায়
এলএনজি আমদানি বাড়িয়েছে। অভ্যন্তরীণ গ্যাস উত্তোলন হ্রাস পাওয়া ও দেশভিত্তিক
জ্বালানি সরবরাহে বহুমুখিতার প্রভাবে এ অঞ্চলে এলএনজি আমদানি বেড়েছে।
উল্লেখ্য, লন্ডনভিত্তিক
গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইএইচএস মার্কিটের তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ এলএনজির বৈশ্বিক
চাহিদা বেড়ে ৫৫ কোটি টন ছুঁয়ে যাবে।










