আগামী মার্চ-জুন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার ভুট্টা রফতানি ৪০ শতাংশ কমার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রোজারিও গ্রেইন এক্সচেঞ্জ সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ মৌসুমের শুরুতেই তুলনামূলক কম জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ খরার কারণে দেশটির কৃষকরা আবাদ করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
রোজারিও গ্রেইন এক্সচেঞ্জ জানায়, এ চার মাসে আর্জেন্টিনা মাত্র ৮৭ লাখ টন ভুট্টা রফতানি করতে সক্ষম হবে। আবাদ প্রচারণার প্রথম সপ্তাহগুলোয় দেশটির প্রাক্কলিত ৭৩ লাখ হেক্টর জমির মধ্যে মাত্র ১৯ শতাংশ জমিতে ভুট্টাবীজ বপন করা হয়েছে। অনেক কৃষকই এখনো বৃষ্টির অপেক্ষায় আবাদ শুরু করেননি। ফলে প্রাক্কলন হিসাবের আওতায় আনা হয়নি কিছু অঞ্চলকে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার সঙ্গে লড়াই করছে আর্জেন্টিনা। দেশটির কৃষি খাত এখন বিপর্যস্ত। গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি ৫ কোটি ৫০ লাখ টন ভুট্টা উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছিল। কিন্তু খরা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় এ মাসে উৎপাদনের পরিমাণ কমিয়ে ৪ কোটি ২৫ লাখ টন ধরা হয়েছে। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো উৎপাদন পূর্বাভাস কমানো হলো।
এক্সচেঞ্জ বলছে, এ বছর মোট ভুট্টা উৎপাদনের পরিমাণ তুলনামূলক কমবে। এছাড়া খাদ্যশস্যের প্রাপ্যতায় মৌসুমি রূপরেখায়ও পরিবর্তন আসতে পারে। মার্চ-জুন পর্যন্ত রফতানি ও ব্যবহারের জন্য সরবরাহ থাকবে অত্যন্ত স্বল্প পরিমাণে।
মৌসুমের শুরুতেই যারা ভুট্টা আবাদ করেছেন তাদের জমিতে উৎপাদন বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যারা দেরিতে আবাদ করেছেন তাদের জমিতে উৎপাদন কমবে। রোজারিও গ্রেইন এক্সচেঞ্জের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বছর আর্জেন্টিনা সব মিলিয়ে ২ কোটি ৭৫ লাখ টন ভুট্টা রফতানি করবে।
দেশটির সরকার স্থানীয় বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে রফতানি সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আবাদ নিয়ে চলমান প্রচারণার অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানা গেছে। ২০২২-২৩ মৌসুমে রফতানির অনুমতি রয়েছে ২ কোটি টনের।










