জাপান সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের কারণে দেশটিতে বিদেশী শিক্ষার্থীদের খরচ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, দেশটিতে টিউশন ফির সর্বোচ্চ সীমা তুলে নেয়া হচ্ছে। এতে জাপানে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের এ বাবদ খরচ বেড়ে যেতে পারে। খবর নিক্বেই এশিয়া।

বর্তমানে জাপানের ৮৬টি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্ট্যান্ডার্ড টিউশন বার্ষিক ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৮০০ ইয়েন বা ৩ হাজার ৫০০ ডলার। তবে বিদ্যালয়ে ২০ শতাংশ বা ৬ লাখ ৪২ হাজার ৯৬০ ইয়েন পর্যন্ত টিউশন ফি দিতে পারে। এতদিন দেশটিতে দেশী ও বিদেশী শিক্ষার্থীদের একই পরিমাণ চার্জ প্রযোজ্য ছিল। তবে নতুন নিয়ম অনুসারে বিদেশীদের গুনতে হবে বাড়তি অর্থ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশী শিক্ষার্থীদের ফি সীমা তুলে দিতে চলতি মাসে কলেজ টিউশন বিষয়ে অধ্যাদেশ সংশোধন করবে জাপান। এর প্রভাবে বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য আরো বেশি চার্জ নিতে প্ররোচিত করতে পারে।

স্থানীয় সরকার পরিচালিত পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নতুন এ নিয়ম অনুসরণ করবে।

দেশটিতে উচ্চ শিক্ষা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের বিশেষ কিছু প্রশিক্ষণের দরকার হয়। এর মধ্যে রয়েছে জাপানি ভাষা শিক্ষা ও জাপানি ভাষায় প্রতিবেদন লেখার প্রশিক্ষণ। এছাড়া আবাসন বাবদও শিক্ষার্থীদের বড় অংকের খরচ করতে হয়। 

বিশ্বের অনেক দেশেই দেশী-বিদেশী শিক্ষার্থীদের খরচের আলাদা কাঠামো রয়েছে। আন্তঃসরকারবিষয়ক সংস্থা অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ওইসিডি) মতে, যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয়দের তুলনায় বিদেশী শিক্ষার্থীদের টিউশন খরচ প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে কানাডায় এ ব্যবধান প্রায় শতভাগ।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিদেশী শিক্ষার্থীদের কিছু সুবিধা দিয়ে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে আবাসন ও আর্থিক সহায়তা।

বিদেশী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে জাপান সরকারের কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩৩ সালে বিদেশী ছাত্রদের সংখ্যা চার লাখে উন্নীত করতে চায় টোকিও, যা ২০১৯ সালের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে উচ্চ খরচের দেশ জাপানকে অনেক পথ হাঁটতে হবে। দেশটির রাজধানীতে অবস্থিত টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশী ছাত্রের হিস্যা মাত্র ২ শতাংশ। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের দুই প্রধান উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ২৪ ও হার্ভার্ডে ১২ শতাংশের বেশি।

এদিকে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা বিপর্যস্ত জাপান। অভ্যন্তরীণ ভোগ ব্যয় কমে যাওয়ায় অপ্রত্যাশিতভাবে সংকুচিত হয়েছে অর্থনীতি, যা দেশটিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি এখন তৃতীয় থেকে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিককালে জাপানে জ্বালানি তেল ও খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বেড়েছে।

 ফলে দেশটির ভোক্তারা কেনাকাটার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। এরই প্রভাব পড়েছে দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতিতে। অর্থনৈতিক এ পতনের অন্যতম কারণ হিসেবে বলা হয়েছে ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের দুর্বলতা।