গত বছরে মার্কিন মূল্যস্ফীতি কমেছে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় মূল্যস্ফীতি কমছে না। এর অন্যতম কারণ উচ্চ গাড়িবীমা। সরকারি তথ্যানুযায়ী, মোটর গাড়ির বীমা প্রিমিয়াম এক বছর আগের তুলনায় ডিসেম্বরে ২০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে, যা ১৯৭০ দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি। খবর রয়টার্স।
মার্কিন লেবার ডিপার্টমেন্ট সম্প্রতি মাসিক কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (সিপিআই) প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, ডিসেম্বরে ভোক্তামূল্য সামগ্রিকভাবে এক বছর আগের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।
এর আগে রয়টার্সের জরিপে অংশ নেয়া অধিকাংশ অর্থনীতিবিদ আশা করেছিলেন যে নভেম্বরে ভোক্তামূল্য ৩ দশমিক ১ শতাংশের চেয়ে বেশি হবে।
এ বিষয়ে মার্কিন অর্থনীতিবিদ টম সাইমনস বলেন, ‘সিপিআইয়ে অন্তর্ভুক্ত উপাদানগুলোর মধ্যে এমভিআইয়ের (মোটর গাড়ির বীমা) দাম বৃদ্ধি চোখে পড়ার মতো। আমি স্বল্পমেয়াদে এটা থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না।’
সরকারি তথ্যানুযায়ী, পুরো বছর মাসিক ভিত্তিতে প্রিমিয়াম ক্রমাগত বেড়েছে। গত মাসেও তা ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে, যা গত বছরের গড় মাসিক বৃদ্ধির প্রায় সমান। সাম্প্রতিক বৃদ্ধির হার মহামারীর আগে সব মাসিক বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গেছে।
গত বছরগুলোয় খুব কম সময়ই সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির জন্য গাড়ি বীমা দায়ী ছিল। ২০২৩ সালের চূড়ান্ত প্রান্তিকে সার্বিক মূল্যস্ফীতির ১৫ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল গাড়ি বীমা।
অর্থনীতিবিদ টম সাইমনস বলেছেন, ‘ক্রমবর্ধমান প্রিমিয়ামের পাশাপাশি আরো বেশকিছু কারণও যুক্ত আছে। যেমন ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন মেরামত করার জন্য শ্রম ও যন্ত্রাংশের খরচ বেড়েছে এবং বেড়েছে গাড়ির দাম।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘পুনর্বীমাকারীদের কাছ থেকে চাহিদা কমে যাওয়াও একটি কারণ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝুঁকিও এর পেছনে দায়ী।’
বিশ্লেষকরা জানান, অটোবীমা রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করে। অঞ্চল ভিত্তিতে এর মূল্য নিয়ন্ত্রণ হয়।
হোয়াইট হাউজ ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের ডিরেক্টর লেইল ব্রেইনার্ড বলেছেন, ‘বড় ব্যবসায়ীদের কাছে বীমার দাম কমিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়েছে। মার্কিন সরকারের সব স্বাধীন এজেন্সি অন্যায় ও প্রতারণামূলক মূল্য অনুশীলন মোকাবেলার দিকে দৃষ্টি দিচ্ছে।’
তবে মূল্যস্ফীতি বাড়ানোর জন্য বীমা একমাত্র দায়ী কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ বছরের শেষের দিকে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর নীতি বদলাতে পারে।










