আগামী বছর থেকে অর্থনীতিতে গতি ফেরার পূর্বাভাস দিয়েছে চীন। আর তা বাস্তবায়ন করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে দাবি করেছে দেশটির ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির অর্থ বিভাগ। ভোক্তা চাহিদা বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে অন্যান্য দলের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা হবে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম শিনহুয়ার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

গত ১১-১২ ডিসেম্বর চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার গতি ত্বরান্বিত করতে তারা আগামী বছরকে নির্ধারণ করেছেন। সম্প্রতি সে সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে দলটি।

এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত গৃহীত নীতিগুলো আগামী বছরের মধ্যেই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে দেবে। পণ্যের দাম এখন অনেকটা কমে এসেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ঘাটতি আতঙ্কিত হওয়ার পর্যায়ে এখনো ওঠেনি। অর্থনৈতিক নীতিমালা ও কার্যকর মুদ্রানীতির জন্য কাজ করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনের দাবি, দেশের অর্থনীতিতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতার প্রধান কারণ অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যাওয়া। পাশাপাশি রয়েছে ভোক্তা ব্যয়ের সংকোচন এবং বিনিয়োগ কমে আসা। সদস্যরা মনে করেন, চীন মহামারী-পরবর্তী প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠবে আগামী বছর। বিশেষ করে টেকসই ব্যয় বৃদ্ধির জন্য নেয়া হবে পদক্ষেপ।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল চলতি বছরে চীনের প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৪ শতাংশ থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে। পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে মহামারী-পরবর্তী অর্থনৈতিক গতি শক্তিশালী থাকার। এদিকে দেশটির সরকারের দেয়া পূর্বাভাস হলো ৫ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি থাকার।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশটি প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য ভোক্তাব্যয় বাড়ানোর দিকে নজর দিতে চায়। বিশেষ করে স্মার্ট হাউজ, অবসরকালীন বিনোদন, পর্যটন ও খেলাধুলা খাতকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলা হবে নাগরিক ও বিদেশীদের জন্য। পর্যটন খাত দেশটির আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদিও মহামারী-পরবর্তী দেশটির পর্যটন খাত বৈশ্বিক পর্যটন খাতের মতোই ভেঙে পড়েছে। এছাড়া আগামী বছরের মধ্যে সুদহার কমিয়ে আনা, ট্যাক্স ও বিভিন্ন ধরনের ফি কর্তন ও নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হবে বলে দাবি করা হয়েছে। বিবেচনায় রাখা হবে আবাসন খাতকেও। প্রয়োজনে প্রত্যাশিত মাত্রায় করা হবে অর্থায়ন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‌সব দলের সহযোগিতা নিয়ে আবাসন খাতের সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকিগুলো মোকাবেলা করা হবে। বাজারকে স্থিতিশীল রাখার জন্য নেয়া হবে সব ধরনের সম্ভাব্য পদক্ষেপ।