বিশ্বব্যাপী অনলাইন গিগ ওয়ার্কের পরিধি বাড়ছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোয় অনলাইন গিগ ব্যবস্থা নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে। যা একদিকে বেকারত্ব কমাচ্ছে ও অন্যদিকে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। তবে অনলাইন গিগ অর্থনীতির ক্ষেত্রে চাকরি সুরক্ষার অভাব নিয়ে অনেক বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন। অনলাইনভিত্তিক এ ধরনের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে চাকরি নিরাপত্তা তুলনামূলক প্রচলিত চাকরির থেকে অনেক কম। খবর এপি।
বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী অনলাইন গিগ কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৪৩ কোটি ৫০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। পাশাপাশি অনলাইনে গিগ কাজের চাহিদা ২০১৬-২০২৩ সালের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত ৪১ শতাংশ বেড়েছে।
ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট, ইমেজ এডিটিং ও ভিডিও এডিটিং, ডাটা এন্ট্রি, ওয়েবসাইট ডিজাইন, সফটওয়্যার বাগ ফিক্সিং ও সফ্টওয়্যার ডেভেলপমেন্টের মতো কাজগুলো অনলাইন গিগ ওয়ার্কের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বর্তমানে এ খাতের প্রবৃদ্ধি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে।
উবার ও লিফটের মতো অবস্থানভিত্তিক গিগ পরিষেবাগুলোর বিপরীতে অনলাইন গিগ অ্যাসাইনমেন্টগুলোয় প্রায়ই বাড়ি থেকে করার সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি অনলাইনভিত্তিক কাজের পেমেন্ট বা মজুরি বেশ মোটা অংকের হয়ে থাকে। যে কারণে অনেকেই এখন এদিকে বেশি আগ্রহী হচ্ছে।
উন্নয়নশীল বিশ্বে নারী ও সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের জন্য অনলাইন গিগ ওয়ার্ক শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের একটি অনন্য সুযোগ দিয়ে থাকে। বিশ্বে ব্যাংকের প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাপী অনলাইন গিগ ওয়ার্কের কর্মীদের মধ্যে কম সামাজিক বীমা কভারেজ বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া প্রায় অর্ধেকের মতো কর্মীর অবসরবিষয়ক কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানানো হয়েছে। ভেনিজুয়েলা ও নাইজেরিয়ার মতো কিছু দেশে অনলাইন গিগ ওয়ার্কের ৭৫ শতাংশ কর্মীদের অবসর গ্রহণের জন্য কোনো সঞ্চয় থাকে না। আর্থিক নিরাপত্তার এ অভাব অনলাইন গিগ কাজের ক্ষেত্রে দুর্বলতাকে তুলে ধরে।
যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইন ও অনসাইট গিগ কর্মীর ক্ষেত্রে উভয়ই সমানতালে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে অনলাইনভিত্তিক এসব প্লাটফর্মে শ্রমিকদের অধিকার ও সুরক্ষা সম্পর্কে বিতর্ক চলমান রয়েছে। ২০২১ সালের পিউ রিসার্চের সমীক্ষায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের ১৬ শতাংশ অনলাইন গিগ প্লাটফর্মের মাধ্যমে উপার্জন করে থাকে।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বিচারে মৌলিক শ্রম মান ও ন্যূনতম মজুরিসহ ভালো কাজের ক্ষেত্র তৈরিতে গুরুত্বারোপ করেছে। এরই অংশ হিসেবে অনলাইন গিগ ওয়ার্কের কর্মীদের অর্থনৈতিক কল্যাণ ও চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অবসর পরিকল্পনাসহ সামাজিক সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।










