শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে কোম্পানি মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা। চলতি বছরের চেয়ে আগামী বছর আরো দ্রুত মজুরি বাড়ানোর অনুরোধ করেন তিনি। মূল্যস্ফীতি থেকে সম্পূর্ণভাবে বেরিয়ে আসার চেষ্টার অংশ হিসেবে এ আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির সরকারপ্রধান। খবর নিক্কেই এশিয়া।
সম্প্রতি কেইদানরেন নামে পরিচিত জাপানের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যবসায়িক লবি আয়োজিত একটি সভায় যোগ দেন ফুমিও কিশিদা। সেখানে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বেতন বৃদ্ধির জন্য আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই, যা এ বছরকে ছাড়িয়ে যাবে।’
তবে তার কোনো সংখ্যাসূচক লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেননি প্রধানমন্ত্রী।
জনগণের নিষ্পত্তিযোগ্য আয়কে সমর্থন করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন ফুমিও কিশিদা। একটি নির্ধারিত ট্যাক্স ছাড়সহ আগামী বছর থেকে এটি কার্যকর হবে বলে জানান তিনি।
২০২৪-এর শুরুতে কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্যদ ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর মধ্যে মজুরিসংক্রান্ত বার্ষিক আলোচনা ‘চেন্তো’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ফলে সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে বেতন বৃদ্ধির এ আহ্বান গুরুত্ব বহন করে।
চেন্তো জাপানি শব্দ। এটি দেশটির এন্টারপ্রাইজ ইউনিয়ন ও নিয়োগকর্তাদের মধ্যে বার্ষিক মজুরি আলোচনাকে বোঝায়। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি বা মার্চের শুরুতে হাজার হাজার ইউনিয়ন একযোগে নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে মজুরি নিয়ে আলোচনা করে থাকে।
বেতন বাড়ানোর ক্ষেত্রে গত প্রায় তিন দশকের মধ্যে চলতি ব্যবসায়িক বছরে সেরা ফলাফল দেখেছে জাপান। বড় কোম্পানিগুলো ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ ও ছোট কোম্পানিগুলো ৩ শতাংশ বেতন বাড়াতে সম্মত হয়েছে।
পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট থেকে বেরিয়ে আসা এবং দেশে একটি স্থিতিশীল মূল্যস্ফীতি অর্জনে সহায়তা করার জন্য আরো মজুরি বাড়ানোর বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে কিশিদা সরকার ও ব্যাংক অব জাপান।
জাপান বিজনেস ফেডারেশন বা কেইদানরেনের প্রধান মাসাকাজু তোকুরা বলেন, ‘মূল্যস্ফীতিকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে ‘‘আরো জোরালো এবং দৃঢ় সংকল্পের সঙ্গে’’ মজুরি বাড়ানো দরকার।’










