যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নতুন করে ৮০০ স্টোর চালু করতে চায় জার্মানভিত্তিক গ্রোসারি চেইন শপ আলদি। মার্কিন বাজারে ভোক্তা ব্যয় বাড়ার কারণে খরচ বাঁচাতে সস্তায় পণ্য খুঁজছেন ক্রেতারা। সেই চাহিদাকেই কাজে লাগাতে চায় ডিসকাউন্ট বা মূল্যছাড়ের জন্য পরিচিত সুপারমার্কেট কোম্পানিটি। খবর ইয়াহু ফাইন্যান্স।
বিশ্বের ১৮ দেশে প্রায় ১২ হাজার স্টোর রয়েছে আলদির। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও রয়েছে শক্তিশালী উপস্থিতি। তা আরো দৃঢ় করতে আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৮০০ স্টোর চালু করতে চায় ইউরোপীয় কোম্পানিটি। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯০০ কোটি ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা সম্প্রসারণের ঘোষণা এমন সময় এল যখন সাউথইস্টার্ন গ্রোসার্স অধিগ্রহণ সম্পন্নের কথা জানিয়েছে কোম্পানিটি। এছাড়া উইন ডিক্সি ও হারভেসের মতো সুপারমার্কেট ব্র্যান্ডগুলোয়ও মালিকানা রয়েছে আলদির।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলেও একটি বড় ধরনের সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে কোম্পানিটি, সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাদের এ উদ্যোগের মধ্যে স্টোর রূপান্তর এবং নতুনভাবে নির্মাণ উভয়ই থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কোন কোন পয়েন্টে স্টোর খোলা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে এখনো কিছু জানায়নি আলদি কর্তৃপক্ষ। তবে ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ উত্তর-পূর্ব ও মধ্য পশ্চিম অঞ্চলে প্রায় ৩৩০টি স্টোর খোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে কোম্পানিটি। পাশাপাশি পশ্চিম অঞ্চলেও উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনা আলদির। এছাড়া দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া, ফিনিক্স, লাস ভেগাসসহ আরো কিছু নতুন শহরে স্টোর নিয়ে প্রবেশ করতে চায় জার্মান কোম্পানিটি।
আলদির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেসন হার্ট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের এ সম্প্রসারণ উদ্যোগের পেছনে ভূমিকা রেখেছেন মূলত আমাদের গ্রাহকরা। দেশব্যাপী ক্রেতারা তাদের বাড়ির আশপাশে আলদির স্টোর চান।’
তিনি আরো বলেন, ‘ক্রেতারা যেখানেই আমাদের প্রয়োজন অনুভব করবেন, সেখানেই উপস্থিতি বাড়াতে চাই। এ প্রতিশ্রুতি নিয়েই আমরা আগামী পাঁচ বছরে আরো ৮০০ স্টোর তৈরি করতে চাই।’
যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যপণ্যের দাম ক্রমেই বাড়ছে, যা নাগরিকদের খানা ব্যয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শিগগিরই এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কমে আসার সম্ভাবনাও নেই। দেশটিতে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সব ধরনের খাদ্যসামগ্রীর জন্য ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। গত বছরের জানুয়ারির তুলনায় এটি ১ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। রেস্তোরাঁর খাবারের দামও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে।
ক্রেতাদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে আলদি। কারণ অনেকেই ডিসকাউন্ট বা মূল্যছাড় পেতে ভিড় করছেন স্টোরগুলোয়।










