আবারো কমেছে অপরিশোধিত ইস্পাতের বৈশ্বিক উৎপাদন। এ নিয়ে টানা দুই মাসের মতো ব্যবহারিক ধাতুটির উৎপাদন কমল। এমন মন্দার জন্য চীনকে দায়ী করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, কার্বন নিঃসরণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটসহ নানা কারণে দেশটির অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন সংকুচিত হচ্ছে। ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউএসএ) মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে নিম্নমুখী উৎপাদনের এমন চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতি মাসেই ৬৪টি দেশের ইস্পাত উৎপাদন তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে এ প্রতিবেদন তৈরি করে ডব্লিউএসএ। গত বছর বৈশ্বিক উৎপাদনের ৯৮ শতাংশই আসে এসব দেশ থেকে। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, সেপ্টেম্বরে বিশ্বজুড়ে ১৪ কোটি ৪৪ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন ৮ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। তবে বছরের প্রথম নয় মাসে উৎপাদন ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। উৎপাদিত ইস্পাতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪৬ কোটি ১২ লাখ টনে।
ডব্লিউএসএ বলছে, বিশ্বের শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদক চীন। ধাতুটি ব্যবহারের দিক থেকেও তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে দেশটির নাম। কিন্তু কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে ইস্পাত উৎপাদনের লাগাম টেনে ধরেছেন দেশটির নীতিনির্ধারকরা।
চীনে পরিবেশদূষণের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী ইস্পাত খাত। দেশটির কার্বন নিঃসরণের ১০-২০ শতাংশই আসে এ খাত থেকে। ফলে ২০৬০ সালের মধ্যে নিট-জিরো লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এ খাতকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে বেইজিং।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বৃহৎ বাজার থাকায় ইস্পাত উৎপাদন কমানোর লক্ষ্য নিয়ে বছর শুরু করা চীনের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। উল্টো বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) উৎপাদন গত বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ বেড়ে যায়। তবে দ্বিতীয়ার্ধ (জুলাই-ডিসেম্বর) থেকে সাফল্যের দেখা মিলছে। এরই ধারাবাহিকতায় সেপ্টেম্বরে দেশটির অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন ২১ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৩৮ লাখ টনে। এর প্রভাব পড়েছে এশিয়া ও ওশেনিয়া মহাদেশের উৎপাদনেও। গত মাসে দুটি অঞ্চলের মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ১৯ লাখ টনে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ কম। তবে এশিয়ায় এমন মন্দার মধ্যেও জাপান ইস্পাত উৎপাদন ব্যাপক হারে বাড়িয়েছে। গত মাসে দেশটির অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৮১ লাখ টনে পৌঁছেছে। ভারতও ঊর্ধ্বমুখিতায় মাস শেষ করেছে। বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদনের দ্বিতীয় শীর্ষ দেশটি সেপ্টেম্বরে ৯৫ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। এদিকে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোয় ১ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ৩৫ দশমিক ৭ শতাংশ হারে উৎপাদন কমেছে।
ডব্লিউএসএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর ইস্পাতের বৈশ্বিক চাহিদা ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়বে। চাহিদার পরিমাণ দাঁড়াবে ১৮৫ কোটি ৫৪ লাখ টনে। গত বছর কভিড-১৯ মহামারীর ধাক্কায় শিল্প ধাতুটির চাহিদা প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র দশমিক ১ শতাংশ। ওয়ার্ল্ড স্টিল জানায়, আগামী বছর চাহিদা আরো ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১৮৯ কোটি ৬৪ লাখ টনে পৌঁছতে পারে।










