চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ভিয়েতনামের কফি রফতানি বাড়ার আভাস মিলেছে। ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে রফতানি আয়ও বাড়বে। গতকাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির জেনারেল স্ট্যাটিসটিকস অফিস (জিএসও)।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জানুয়ারি-আগস্ট পর্যন্ত ভিয়েতনামের কফি রফতানির পরিমাণ দাঁড়াবে সব মিলিয়ে ১২ লাখ টন, যা দুই কোটি ব্যাগের (প্রতি ব্যাগে ৬০ কেজি) সমান। সে হিসাবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়বে।
ভিয়েতনাম বিশ্বের শীর্ষ রোবাস্তা কফি উৎপাদক ও রফতানিকারক। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশটি কফি রফতানি থেকে আয় করেছে ২৮০ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আয় বেড়েছে ৩৯ দশমিক ৬ শতাংশ। তথ্য বলছে, শুধু আগস্টেই দেশটির কফির রফতানির পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লাখ ১০ হাজার টনে। এটি থেকে আয় হয়েছে ২৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
রফতানি বাড়লেও ভিয়েতনামে কফি বিন উৎপাদন ব্যাপক হারে কমেছে। মজুদও নিম্নমুখী। এ কারণে ক্রমবর্ধমান পানীয় পণ্যটির বৈশ্বিক বাজারদর আরো বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
২০২২-২৩ মৌসুমে দেশটির কফির উৎপাদন লক্ষণীয় মাত্রায় কমতে পারে। ব্যবসায়ীদের পরিচালিত এক জরিপে দেখা গিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ দেশটিতে কফির মজুদ আগের বছরের তুলনায় অর্ধেকে নেমে আসতে পারে।
এ সময় ভিয়েতনামে কফির মজুদ ও উৎপাদন কমার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, যখন বৈশ্বিক করোনা মহামারীর ধাক্কা সামলে কফির বৈশ্বিক ব্যবহার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে শীর্ষ দেশটিতে উৎপাদন কমতে থাকায় পণ্যটির বিশ্ববাজার পরিস্থিতি আরো অস্থিতিশীল হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তথ্য বলছে, গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি রোবাস্তা কফির দাম ১০ মাসের সর্বনিম্নে নেমে গিয়েছিল। তবে ব্রাজিল ও আফ্রিকা থেকে সরবরাহ ঘাটতির উদ্বেগ ও ভিয়েতনামে উৎপাদন কমে যাওয়ার খবরে পণ্যটির দাম ১৭ শতাংশ বেড়েছে।
শুল্ক বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে ভিয়েতনামে কফি বিনের প্রাপ্যতা কমেছে। কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এ সময় দেশটির কফি বিন রফতানি আগের বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে। রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৫০ হাজার টনে। মূলত কনটেইনার সরবরাহ ও জাহাজ সংকট শিথিল হওয়ায় দেশটি রফতানি বাড়ায়। কিন্তু রফতানি বাড়ায় দেশটি মজুদ ধরে রাখতে জটিলতার মুখে পড়তে পারে। ভিয়েতনামের কফি ব্যবসায়ীরা বলছেন, নভেম্বরের শুরুর দিকে ভিয়েতনামের বাজারে কফির ভয়াবহ সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছি আমরা।










