জাপানে চিপ ঘাটতির কারণে গাড়ি উৎপাদন মন্দার মুখে। ফলে এ খাতে ইস্পাতের চাহিদা অব্যাহত কমছে। আর এ কারণেই চলতি প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) দেশটিতে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন নিম্নমুখী হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছে দেশটির অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় (এমইটিআই)। খবর রয়টার্স।
এমইটিআইয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, অক্টোবর-ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে জাপানের অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ২ কোটি ২৫ লাখ ৫০ হাজার টনে নেমে আসবে। আগের বছরের শেষ প্রান্তিকে ২ কোটি ৪২ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছিল।
যন্ত্রাংশ সরবরাহ সংকটের কারণে জাপানি গাড়ি প্রস্তুতকারকদের বৈশ্বিক উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণেই ইস্পাত উৎপাদন খাতে মন্দা দেখা দিয়েছে। তবে সদ্যসমাপ্ত প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) তুলনায় ইস্পাত উৎপাদন দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। ওই প্রান্তিকে দেশটি ২ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার টন ইস্পাত উৎপাদন করেছিল।
এমইটিআইয়ের মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ বিভাগের পরিচালক ডাইসুকে মাতসুনো সংবাদমাধ্যমকে বলেন, গাড়ি উৎপাদন পর্যায়ক্রমে গতিশীল করা সম্ভব হবে। তবে সেমিকন্ডাক্টরের ঘাটতি সম্পূর্ণরূপে দূর না হওয়ায় নেতিবাচক আশঙ্কাও আছে। সাপ্লাই চেইনে সংকটের ফলে এরই মধ্যে টয়োটা মোটর এবং হোন্ডা মোটরের মতো গাড়ি নির্মাতারাও অক্টোবরের তাদের উৎপাদান লক্ষ্যমাত্রা কমিয়েছে।
শিল্প সমীক্ষার উদ্ধৃতি দিয়ে দেশটির মন্ত্রণালয় বলছে, রফতানিসহ ইস্পাত পণ্যের চাহিদা গত বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ২ কোটি ৬ লাখ ৫০ হাজার টন হতে পারে। যেখানে রফতানির পরিমাণ ১০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে হবে ৬২ লাখ টন।
মাতসুনো বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েনের মূল্য কমায় জাপানি ইস্পাত রফতানি বাড়বে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু বৈশ্বিক ক্রমবর্ধমান সুদের হারের প্রভাব এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে এশিয়ায় ইস্পাতের আমদানি চাহিদা মন্থর হয়েছে।
জাপানি ইয়েন চলতি সপ্তাহে ৩২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশ যখন মুদ্রাস্ফীতি মোকাবেলায় সুদের হার বাড়িয়েছে তখন জাপানের ব্যাংক এ নীতিটি কিছুটা শিথিল রেখেছে।










