যুক্তরাষ্ট্রে দেউলিয়াত্বের কথা জানিয়ে সুরক্ষার জন্য আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে আরেক চীনা প্রতিষ্ঠান আয়ুযান। মূলত মামলার ধকল থেকে বাঁচতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে হংকং স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানটি।

চীনের রিয়েল এস্টেট খাতের বেশ কয়েকটি কোম্পানি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে দেউলিয়াত্বের সংকট থেকে সুরক্ষার আবেদন করেছে। এ তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন আয়ুযান। চীনের গুয়াংডং প্রদেশের গুয়াংজুভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৬ সালে যাত্রা শুরু করে।

যুক্তরাষ্ট্রে চ্যাপ্টার-১৫ শীর্ষক আইনের একটি ধারায় কোনো বিদেশী কোম্পানির মার্কিন সম্পদ সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে, যাতে ওই কোম্পানি তার ঋণ পরিশোধের বিষয়ে ঋণদাতাদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে। চলতি বছর এর আগে চীনা রিয়েল এস্টেট খাতের বৃহৎ প্রতিষ্ঠান এভারগ্রান্ডে গ্রুপও চ্যাপ্টার-১৫-এর অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে দেউলিয়াত্ব থেকে সুরক্ষার জন্য আবেদন করেছে। আয়ুযান গ্রুপের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একই আবেদন করা হয়।

এর আগে গত ২৯ নভেম্বর আয়ুযান গ্রুপ জানায়, ঋণদাতারা তাদের একটি পুনর্গঠন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন। আগামী ৮ জানুয়ারি হংকংয়ের আদালতের এক রায়ের পর ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরুর বিষয়ে আশাবাদী কোম্পানিটি। 

গত সেপ্টেম্বরে আয়ুযান নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থার একটি চিত্র প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, গত জুনের শেষ পর্যন্ত তাদের মোট দায়ের পরিমাণ কোম্পানির বিদ্যমান ৩ হাজার ৬৫১ কোটি ইউয়ান (৫১৪ কোটি ডলার) সম্পদের চেয়েও বেশি।

নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলো শেষ করার জন্য বিনিয়োগকারী খুঁজে পেতে চীনের রিয়েল এস্টেট খাতের বেশকিছু বড় প্রতিষ্ঠানকে এখন রীতিমতো লড়াই করতে হচ্ছে।

আর্থিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মুডি’স অ্যানালিটিকসের চিফ ইকোনমিস্ট স্টিভেন কখরেন বলেন, ‘এ সংকটের মূলে রয়েছে অসমাপ্ত প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করা। কেননা এর মাধ্যমে অন্তত কিছুটা হলেও অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হবে।’

আয়ুযান ২০২১ সালের ডিসেম্বরে জানিয়েছিল যে ৬৫ হাজার ১২০ কোটি ডলার মূলধন পরিশোধের জন্য পাওনাদারের দাবি পূরণ করতে পারেনি। ফলে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিং কোম্পানিটিকে ‘‌সিলেক্টিভ ডিফল্ট’ ডাউনগ্রেড করে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল তখন আয়ুযানকে কভার করা বন্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে দুর্বল তারল্য ও অর্থায়নের অভাব"সম্পর্কে সতর্ক করে। ২০২২ সালের মে মাসে ফিচ রেটিংস কভার প্রত্যাহার করার পর প্রধান বৈশ্বিক ঋণমান সংস্থাগুলো কোম্পানিটির ওপর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। এর প্রধান কারণ ছিল পর্যাপ্ত তথ্যের ঘাটতি।