পণ্য খালাসে দেরি হওয়া ও বন্দরের বাইরে যেতে না দেয়ার প্রতিবাদে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে পণ্য নিয়ে অবস্থানরত ভারতীয় ট্রাকচালকরা অবরোধ করেন। গতকাল সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ অবরোধ বন্দর কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ৩ ঘণ্টা পর শেষ হয়। এরপর ভারত-বাংলাদেশের মাঝে পণ্য আমদানি-রফতানিসহ বন্দরের সব কার্যক্রম শুরু হয়।

জানা গেছে, গতকাল সকাল ৯টায় বিভিন্ন দাবিতে বন্দরের প্রবেশমুখে ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করেন ভারতীয় ট্রাকচালকরা। এতে করে বন্দরের অভ্যন্তরে নতুন করে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক ও পণ্য নিতে আসা বাংলাদেশী ট্রাক প্রবেশ বন্ধ ছিল। এ সময় সড়কে ট্রাকগুলো দাঁড়িয়ে থাকার কারণে উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে মানুষজন। পরে অবরোধ প্রত্যাহার করে নিলে দুপুর ১২টা থেকে বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানিসহ সব কার্যক্রম শুরু হয়।

ভারতীয় ট্রাকচালকদের দাবি, আগে বন্দরে প্রবেশের দু-তিনদিনের মধ্যেই পণ্য খালাস হয়ে যেত। আর সে হিসাবে টাকা ও খাবার নিয়ে আসতেন তারা। কিন্তু বর্তমানে অনেক ট্রাকের পণ্য ১০-১৫ দিন হয়ে গেলেও খালাস করা যায় না। এতে করে সঙ্গে নিয়ে আসা খাবার শেষ হয়ে যাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হয় তাদের। অন্যদিকে জরুরি প্রয়োজন হলেও বন্দরের বাইরে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হয় না।

হিলি স্থলবন্দরের কর্মকর্তারা বলছেন, করোনার কারণে ভারতীয় ট্রাকচালকদের বন্দরের বাইরে যাওয়া বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে খাবারসহ অন্য প্রয়োজনীয় যেসব জিনিসপত্র নিয়ে আসবে, তা ভারতীয় রফতানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের পত্র দিয়ে অবহিত করা আছে। সেই মোতাবেক বন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চলে আসছে। তবে গতকাল সকাল থেকে ভারতীয় ট্রাকচালকরা এর বিরোধিতা করে অবরোধ শুরু করেন।

এ বিষয়ে হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন জানান, তাদের দাবির বিষয়গুলো নিয়ে আমরা বন্দরের আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছি।