রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিনিয়োগ সংস্থাগুলোর সম্পদের আকার সংশোধন করেছে সৌদি আরবের সার্বভৌম সম্পদ তহবিল। এতে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ)। বর্তমানে তহবিলের পরিমাণ পৌঁছেছে ৯২ হাজার ৫২০ কোটি ডলারে। খবর আরব নিউজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি সংস্থা আরামকোর অতিরিক্ত ৮ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণের পর পিআইএফের সম্পদ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেড়েছে। এতে আরামকোর শেয়ার বেড়ে প্রায় ৩২ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে।

এ অধিগ্রহণ পিআইএফের ব্যবস্থাপনায় সামগ্রিক সম্পদকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করেছে, যা ৮৬ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। ২০২২ সালের শেষ নাগাদ এ পরিমাণ ছিল ৭০ হাজার কোটি ডলার।

ফলে আরামকো হোল্ডিং এখন তহবিলটির পোর্টফোলিও মূল্যের প্রায় ৩৭ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে, যা পিআইএফের বৃদ্ধিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। পাশাপাশি দেশটির বৃহত্তর অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণ এজেন্ডায় অন্যতম প্রতিনিধি হয়ে উঠেছে।

মার্কিন বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান সভরেন ওয়েলথ ফান্ড ইনস্টিটিউটের মতে, আরামকোতে পিআইএফের উল্লেখযোগ্য অবস্থান তার বিনিয়োগ সক্ষমতাকে শক্তিশালী করেছে। এতে সংস্থার বার্ষিক লভ্যাংশে বিলিয়ন ডলার যোগ হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন মেগাপ্রকল্প ও সহায়ক সংস্থাগুলোয় তহবিলের সম্পৃক্ততা সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ অর্জনের গতি ত্বরান্বিত করবে।

পিআইএফের উল্লেখযোগ্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইলেকট্রনিকস কোম্পানি আলাতে তহবিল সরবরাহ। ১০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের কোম্পানিটি সেমিকন্ডাক্টর তৈরি করবে। ২০৩০ সালের মধ্যে এ খাত থেকে সৌদি আরবের জিডিপিতে ৯৩০ কোটি ডলার যুক্ত করতে চায় পিআইএফ।

চালকবিহীন গাড়ি নির্মাণ খাতেও বিনিয়োগ বাড়াতে চায় তহবিলটি। এরই মধ্যে হুন্দাইয়ের সঙ্গে অংশীদারত্ব চুক্তি করেছে পিআইএফ। এছাড়া লুসিড ও সিয়ার মোটরসেও বিনিয়োগ করেছে। মোটর গাড়ি নির্মাণ শিল্পে পিআইএফের বিনিয়োগের লক্ষ্য সম্পর্কে বলা হচ্ছে, এ খাতে উল্লেখযোগ্য স্থানে যেতে চায় সৌদি আরব।

চলতি মাসের শুরুতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এক ঘোষণায় জানান, আরামকোর ৮ শতাংশ শেয়ার সম্পূর্ণভাবে পিআইএফের মালিকানাধীন পোর্টফোলিও সংস্থাগুলোয় হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব এখন আরামকো শেয়ারের ৮২ দশমিক ১৮৬ শতাংশের মালিক। প্রতিবেদনে ক্রাউন প্রিন্সকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সৌদি আরামকোতে রাষ্ট্রের শেয়ারের অংশের মালিকানা পিআইএফের মালিকানাধীন সংস্থাগুলোর কাছে হস্তান্তরের বিশেষ লক্ষ্য রয়েছে। এ হস্তান্তর দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সৌদি সরকারের নেয়া উদ্যোগের অংশ। এটি বৈচিত্র্যকরণ কর্মসূচি ও বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করবে।

যুবরাজ জানান, পিআইএফ নতুন অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব তৈরি এবং প্রযুক্তির স্থানীয়করণে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি শ্রমবাজারে আরো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।