ফিউচারস মার্কেটে একদিনের ব্যবধানে মালয়েশিয়ান পাম অয়েলের দাম বেড়েছে। এর প্রধান কারণ দেশটির মুদ্রা রিঙ্গিতের বিনিময় মূল্য দুর্বল হয়ে পড়া এবং দুই দিনের ছুটিকে সামনে রেখে মুনাফা বাড়ানোর প্রবণতা। তবে পণ্যটির সাপ্তাহিক দাম কমেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে এপ্রিল মাসে সরবরাহের জন্য পাম অয়েলের বাজার আদর্শ দাম ৯৭ রিঙ্গিত বা ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ
ৃবেড়েছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ৩ হাজার ৮৪৮ রিঙ্গিত (৯০৪ ডলার ১৪ সেন্ট)। তবে সাপ্তাহিক দাম ১ দশমিক ৩৮ শতাংশ কমেছে।
কুয়ালালামপুরভিত্তিক এক ব্যবসায়ী জানান, টানা দুই দিন ছুটির কারণে সবশেষ কার্যদিবসে ব্যবসায়ীরা মুনাফার আশায় বেশি দামে পাম অয়েল বিক্রি করেছেন। রোববার সাপ্তাহিক ছুটির পাশাপাশি সোমবার সরকারি ছুটির কারণে বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জ বন্ধ থাকবে।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক পাম অয়েল অ্যানালিটিকসের সহপ্রতিষ্ঠাতা সাথিয়া ভারকা বলেন, মালয়েশিয়ায় গত মাসে পাম অয়েল উৎপাদন প্রাথমিকভাবে কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি একদিনের ব্যবধানে দাম বাড়ার অন্যতম কারণ।
তথ্য বলছে, ডালিয়ান কমোডিটি এক্সচেঞ্জ ও শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে প্রতিদ্বন্দ্বী ভোজ্যতেলের নিম্নমুখী দাম ও দুর্বল রফতানির কারণে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে পাম অয়েলের দাম কমে গিয়েছিল। সাপ্তাহিক দাম কমে যাওয়ার পেছনে এ বিষয়গুলো প্রধান ভূমিকা পালন করেছে।
ভারত বিশ্বের শীর্ষ পাম অয়েল আমদানিকারক। গত মাসে দেশটি মালয়েশিয়া থেকে ৩১ শতাংশ কম আমদানি করেছে। সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেলের দাম কম থাকায় এসব পণ্য কেনার পরিমাণ বাড়িয়েছে ভারতের পরিশোধন কেন্দ্রগুলো।
ডালিয়ান এক্সচেঞ্জে সয়াবিন তেলের ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য দশমিক ২৮ শতাংশ কমেছে। সেখানে পাম অয়েলের দাম বেড়েছে ১ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে সয়াবিন তেলের দাম দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়েছে।
জানুয়ারিতে মালয়েশিয়া ১১ লাখ ১৩ হাজার ২৯২ টন পাম অয়েল রফতানি করেছে। ডিসেম্বরে রফতানি করা হয়েছিল ১৫ লাখ ১২ হাজার ৪৬৮ টন। সে হিসেবে রফতানি ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক সমীক্ষায় বলা হয়, চলতি বছর বিশ্ববাজারে পাম অয়েলের দাম নিম্নমুখী থাকবে। তবে এ সময় বাজারে মন্দা ও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কাও রয়েছে। শীর্ষ দেশ ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ পাম অয়েল সরবরাহের সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে। ফলে গত বছরের তুলনায় পণ্যটির দাম ২৩ শতাংশ কমতে পারে।
শিল্পসংশ্লিষ্ট ও বিশ্লেষকদের ওপর এ সমীক্ষা চালানো হয়েছে। এতে বলা হয়, পাম অয়েলের বাজার আদর্শ দাম গত বছর টনপ্রতি ৪ হাজার ৯১০ রিঙ্গিতে উন্নীত হয়েছিল। তবে এ বছর তা কমে ৩ হাজার ৮০০ রিঙ্গিতে নামতে পারে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দাম কমবে ২৩ শতাংশ।
মালয়েশিয়ান পাম অয়েল কাউন্সিলের পরিচালক (মার্কেটিং) ফয়সাল ইকবাল বলেন, এ বছরও বাজারে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও করোনা মহামারীর নেতিবাচক প্রভাব বজায় থাকবে। তবে আমাদের প্রত্যাশা, গত বছরের তুলনায় এবার বাজারে অস্থিতিশীলতার তীব্রতা কিছুটা কমবে।
চীন ও ভারত বিশ্বের শীর্ষ পাম অয়েল ক্রেতা। দেশ দুটির মধ্যে চীন ক্রমাগত কভিড-১৯ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করছে। সবশেষ দেশটি সীমান্ত খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া ভারত পাম অয়েল আমদানি বাড়াচ্ছে। দেশ দুটিতে ব্যবহার বাড়ার কারণে বৈশ্বিক চাহিদায় বড় প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা। এ কারণেই শীর্ষ উৎপাদক ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া চলতি বছর পাম অয়েল উৎপাদন বাড়াবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।










