বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ে বারবার সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হয়েছে। এখন নাগালের বাইরে রয়েছে পরিস্থিতি। যুক্তরাজ্যে ব্যাংকের সুদহার বাড়ার পর থেকে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠছে। কিছু কিছু দেশে মূল্যস্ফীতির সূচক নিচের দিকে হলেও তা প্রত্যাশিত নয়। অথচ সেটা অর্জন করতে সুদহার বাড়াতে হয়েছে গত এক বছরের সর্বোচ্চ উচ্চতায়। ফলে আগামী দিনগুলোয় মূল্যস্ফীতিকে বড় সংকট হিসেবেই দেখছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা। খবর সিএনএন। 

বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি কঠিন সমীকরণে রয়েছে বলেই বিশ্লেষকদের দাবি। বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে রাখা। তা খুব কম দেশই পূরণ করতে পেরেছে। অধিকাংশ দেশেই মূল্যস্ফীতি সম্ভাব্য সীমার ওপরে অবস্থান করছে। সুদহার বৃদ্ধিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মূল্যস্ফীতি মোকাবেলার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেছিল। কিন্তু গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, এটা পদক্ষেপ হিসেবে খুবই মন্থর। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেয়া পদক্ষেপ অন্তত ১২ মাস পরে সার্বিকভাবে অর্থনীতিতে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। 

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভারসম্য আনার ব্যাপারে তৎপরতা দেখিয়েছে। যদি সুদহার বাড়ানো হয় এবং তাতে অর্থনীতির ওপর কেমন প্রতিক্রিয়া দৃশ্যমান হয় সেটাও বিবেচ্য ছিল। এখনো মূল্যস্ফীতি যথেষ্ট উচ্চে রয়েছে। ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের প্রধান ক্রিস্টিন লাগার্দে দাবি করেছেন, শুরু থেকেই পরিকল্পনা ওপরের দিকে দ্রুত উঠছিল। কিন্তু যতই লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণ হতে যাচ্ছিল, ততই স্তিমিত হয়েছে গতি। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গতি প্রয়োজন, কিন্তু তা অত দ্রুত সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। 

ভোক্তাপণ্যের দাম অন্তত ২০ দেশে ৬ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে মে মাসে, এক মাস আগের তুলনায় যা কিছুটা কম। লাগার্দের বিষয়টিই উঠে আসে বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সুদহারও কাজ করছে না। বিশেষ করে মার্কিন মূল্যস্ফীতি গত বছরের এ সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। গত বছর মূল্যস্ফীতি ছিল ২০২১ সালের মে মাসের তুলনায় ৫ দশমিক ২ শতাংশ।

অবশ্য এখনো হতাশ নন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রশ্ন হলো, ঠিক কতদিন সময় লাগে নাগালে নিয়ে আসতে। যদি সময় বেশি লাগে, তাহলে অনেক কিছুই নেতিবাচক দিকে বাঁক নিতে পারে। অর্থনীতিবিদ মাইকেল বোরডো বলেছেন, ‘‌পদক্ষেপ গ্রহণে যত বেশি সময় লাগবে, মূল্যস্ফীতি থামাতে তত বেশি বেগ পেতে হবে। কারণ গবেষণায় স্বীকৃত, মূল্যস্ফীতিকে যদি শনাক্ত করা না হয়, তাহলে পরিস্থিতি তীব্র হয়।’