কয়লা ও গ্যাস আমদানিতে বিদায়ী বছর রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির বাণিজ্য, শিল্প ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা ইউনহাপ।
অর্থমূল্যের দিক থেকে গত বছর দক্ষিণ কোরিয়া ৫ হাজার ৬৭০ কোটি ডলারের গ্যাস আমদানি করে। ১৯৫৬ সালের পর এটি সর্বোচ্চ ব্যয়। ওই বছর থেকেই দেশটির সরকার আমদানি তথ্য সংরক্ষণ করতে শুরু করে। এর আগে ২০১৪ সালে কোরিয়া গ্যাস আমদানিতে রেকর্ড অর্থ ব্যয় করেছিল। ওই বছর ৩ হাজার ৬৬০ কোটি ডলারের গ্যাস আমদানি করা হয়।
কয়লা আমদানিতে ২০২২ সালে দেশটি ২ হাজার ৮১০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। আগে কখনো কয়লা আমদানিতে এ পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেনি দেশটি। জ্বালানিটি আমদানিতে এর আগের রেকর্ড ছিল ১ হাজার ৮৩০ কোটি ডলার। ১১ বছর আগে কয়লা আমদানিতে এ পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছিল দক্ষিণ কোরিয়া।
বাণিজ্য, শিল্প ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, গত বছর দক্ষিণ কোরিয়া ১০ হাজার ৫৮০ কোটি ডলারের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে, যা ২০১২ সালের রেকর্ড আমদানির চেয়ে কিছুটা কম।
দক্ষিণ কোরিয়া মূলত আমদানির মাধ্যমেই জ্বালানি পণ্যের চাহিদা পূরণ করে। গত বছর দেশটির মোট জ্বালানি পণ্য আমদানি ২০২১ সালের তুলনায় ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ১৯ হাজার ৮০ কোটি ডলার। এটিও ইতিহাসের সর্বোচ্চ।
দক্ষিণ কোরিয়া সবচেয়ে বেশি গ্যাস আমদানি করেছে অস্ট্রেলিয়া থেকে। গত বছর দেশটি থেকে আমদানি করা হয় ১ হাজার ৫৩০ কোটি ডলারের গ্যাস। অস্ট্রেলিয়ার মোট গ্যাস রফতানির ২৭ শতাংশ যায় দক্ষিণ কোরিয়ায়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ১ হাজার ১৯০ কোটি, কাতার ৮৫০ কোটি ও মালয়েশিয়া ৫৫০ কোটি ডলারের গ্যাস দক্ষিণ কোরিয়ায় সরবরাহ করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় কয়লা সরবরাহের দিক থেকেও শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া। দেশটি ২০২২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় ১ হাজার ২৪০ কোটি ডলারের কয়লা সরবরাহ করে, যা মোট আমদানির ৪৪ দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া রাশিয়া ৫৭০ কোটি, ইন্দোনেশিয়া ৩৫০ কোটি ও কানাডা ২৬০ কোটি ডলারের কয়লা সরবরাহ করেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির কারণে জ্বালানি আমদানিতে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ তাদের মিত্র দেশগুলোর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে।










