কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি ও মহামারী সময়ের বিধিনিষেধ তুলে নেয়ায় বেড়েছে জাপানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম। কোম্পানিগুলো মূলধন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের ওপর থাকার আশা করছে। নীতিনির্ধারকরা আশা করছেন, তাদের আর্থিক প্রণোদনা ধাপে ধাপে সরিয়ে নেয়ার শর্তগুলো ধীরে ধীরে কার্যকর হবে। এমনটাই জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ত্রৈমাসিক জরিপ তানকান। খবর রয়টার্স।
ইতোচু ইকোনমিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান অর্থনীতিবিদ আতসুশি তাকেদা বলেন, ‘জাপানের অর্থনীতি মাঝারি ধরনের পুনরুদ্ধারের পথে। যদিও ইনপুট দাম কমেছে, আউটপুট দাম ক্রমাগত বাড়ছে। ব্যাংক অব জাপানের মূল্যস্ফীতির জন্য এটি ভালো লক্ষণ। ফলে বছরের শেষ দিকে ব্যাংকটিকে তার উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে।’
বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর হেডলাইন ইনডেক্স জুনে বেড়ে প্লাস ৫ হয়েছে। মার্চে দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন প্লাস ১ ছিল। অর্থাৎ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমবর্ধমান কাঁচামালের দাম ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ধাক্কা সামলে উঠে দাঁড়িয়েছে। প্লাস ৩ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য মধ্যম বাজারের পূর্বাভাসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। নন-ম্যানুফ্যাকচারার্স সূচকে প্লাস ২৩-এ উন্নীত হয়েছে জুনে, যা টানা পঞ্চম প্রান্তিকের মতো বেড়েছে। হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসা বেড়ে সূচক সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। কারণ কভিড-১৯ সময়কার বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের ফলে পর্যটনের চাহিদা বেড়েছে। বড় কোম্পানিগুলো চলতি অর্থবছরে মূলধন ব্যয় ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে, যা এরই মধ্যে ১০ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির জন্য মধ্যম বাজারের পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে।
কোম্পানিগুলো আশা করছে, চলতি অর্থবছরে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের গড় মান দাঁড়াবে ১৩২ দশমিক ৪৩, যা বর্তমানের চেয়ে কম। যদিও ইয়েন দুর্বল হলে রফতানিকারকদের মুনাফা বাড়ে, তবে এটি খুচরা বিক্রেতা এবং পরিষেবা খাতের কোম্পানিগুলোকে খাদ্য ও জ্বালানি আমদানির ব্যয়ের বৃদ্ধির ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। বড় শিল্পের নির্মাতারা আশা করছিলেন, আগামী তিন মাসে ব্যবসায়িক পরিস্থিতির উন্নতি হবে, অন্যদিকে অ-নির্মাতারা উচ্চ ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের পূর্বাভাস দিয়েছেন।
২৭-২৮ জুলাইয়ে নীতিনির্ধারণী সভার পরে ব্যাংক অব জাপান নতুন প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস প্রকাশ করবে। যদিও মূল্যস্ফীতি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তার ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রাকে অতিক্রম করছে, ব্যাংক অব জাপানের গভর্নর কাজুও উয়েদা বারবার মুদ্রানীতিকে অতি শিথিল রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুরি বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই মূল্যবৃদ্ধির নিশ্চয়তা পাওয়া না যায়।
কোম্পানিগুলো আশা করছে, মূল্যস্ফীতি এক বছরে ২ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছবে এবং তিন বছরের মধ্যে তা ২ দশমিক ২ শতাংশ গিয়ে দাঁড়াবে। তবে পাঁচ বছর পরে মূল্যস্ফীতি ২ দশমিক ১ শতাংশ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাপানের অর্থনীতি প্রথম তিন মাসে ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্লেষকরা আশা করছেন, এ প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। কারণ মহামারী-পরবর্তী অভ্যন্তরীণ ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি রফতানির প্রতিবন্ধকতা দূর হবে।










