২০১৩ সালের নভেম্বর ও ২০২৩ সালের অক্টোবরের মধ্যে ভারতের ব্যাংকগুলো থেকে ব্যক্তিগত (পারসোনাল) ঋণ ৬ দশমিক ৬ গুণ বেড়ে ১২ দশমিক ৮৬ ট্রিলিয়ন রুপি হয়েছে। একই সময়ে নন-ব্যাংক ঋণদাতাদের ব্যাংক ঋণ পাঁচ গুণ বেড়ে ১৪ দশমিক ৭৬ ট্রিলিয়ন রুপি হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ব্যাংক ঋণ দুই দশমিক নয় গুণ বেড়ে ১৫৪ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন রুপি হয়েছে। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) সম্প্রতি এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

ইন্ডিয়া রেটিংস অ্যান্ড রিসার্চের প্রধান অর্থনীতিবিদ সুনীল সিনহা বলেছেন, ‘‌নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংক থেকে যথেষ্ট পরিমাণ ঋণ নিয়েছে। যদি তারা চাপে থাকে, তবে এটি ব্যাংকগুলোয় প্রভাব ফেলবে।’

কিংফিশার এয়ারলাইনস, জেট এয়ারওয়েজ, ভূষণ স্টিল ও এসসার স্টিলের মতো বৃহৎ করপোরেট ঋণগ্রহীতারা খেলাপি হয়েছে। এরপর ভারতীয় ভোক্তাদের মধ্যে অনিরাপদ ঋণ গ্রহণের হার বেড়েছে। মোট বকেয়া ভোক্তা ঋণ (গৃহ ও গাড়ি ঋণসহ) নভেম্বর ২০১৩ থেকে অক্টোবর ২০২৩ পর্যন্ত পাঁচ গুণ বেড়ে ৪৯ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন রুপি হয়েছে। এর বিপরীতে শিল্প ও সেবা খাতে ঋণ যথাক্রমে ১ দশমিক ৫ গুণ ও ৩ দশমিক ৩ গুণ বেড়ে ৩৫ দশমিক ৭২ ট্রিলিয়ন এবং ৪২ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন রুপি হয়েছে।

আরবিআই নভেম্বরে এক বিবৃতিতে জানায়, ব্যাংক ও নন-ব্যাংক ঋণদাতাদের তৈরি অনিরাপদ ঋণের ঝুঁকি ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়ে ১২৫ দশমিক করা হয়েছে। এ পরিবর্তনের অর্থ ব্যাংক ও অন্য ঋণদাতাদের ঋণের বিপরীতে আরো বেশি মূলধন রাখতে হবে।

আরবিআই গভর্নর শক্তিকান্ত দাস সতর্ক করার এক মাস পর এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘‌ব্যক্তিগত ঋণের কিছু উপাদান খুব উচ্চ প্রবৃদ্ধি দেখাচ্ছে।’

৫০ হাজার টাকার কম ঋণে ভারতের নিট আর্থিক সঞ্চয় ২০২০ সালের মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে জিডিপির ৭ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ২০২৩ সালে ৫ দশমিক ১ শতাংশে নেমে এসেছে।

অর্থনীতিবিদরা জানান, ভারতের নিম্নবিত্ত ৫০ শতাংশ পরিবার"কভিড-১৯-এর পর আয়ের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ঋণ নেয়া বাড়িয়েছিল। ব্যাংকগুলো বাধ্য হয়েছিল সহজ শর্তে ঋণ দিতে।"এ ভোক্তা ঋণগুলোর বেশির ভাগই ছিল ছোট ও অনিরাপদ। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমানতকারীদের সুরক্ষা দিতে চায়।

ক্রেডিট রেটিং কোম্পানি ট্রান্সইউনিয়ন সিআইবিআইএলের মতে, ২০২৩ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ক্ষুদ্র ঋণ বেড়ে ৮ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে, যা ২০১৯ সালের একই সময়ে ৩ দশমিক ১ শতাংশ ছিল।

চলতি বছর ৫ দশমিক ৪ শতাংশ ঋণগ্রহীতা জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ।

ট্রান্সইউনিয়ন সিআইবিআইএল জানিয়েছে, এ ধরনের ঋণ"নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে গ্রাহকরা অর্থপ্রদানের আগে প্রতিবেশি ঋনগ্রহীতাদের দিকে মনোযোগ দিতে পারে, যা আর্থিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঝুঁকির মাপকাঠি পরিবর্তন গ্রাহকদের বেপরোয়া ঋণ নেয়া থেকে নিরুৎসাহিত করতে পারে। ব্যাংকগুলোও অসুরক্ষিত ঋণদান নীতি কঠোর করতে পারে।

গবেষণা সংস্থা জেফরিস একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, অনিরাপদ ক্ষুদ্র ঋণের বিষয়ে সতর্ক হওয়ার জন্য আরবিআইয়ের নির্দেশনা ঋণদাতাদের ধীরগতির প্রবৃদ্ধির দিকে ঠেলে দিতে পারে, যা ১০০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত সামগ্রিক ব্যাংক ঋণ প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে।