প্রায় এক দশকে প্রথম বারের মতো বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে উত্তর আমেরিকার খাদ্যশস্য উৎপাদন খাত। এ অঞ্চলের কৃষকরা ক্রমবর্ধমান প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি খাতের ওপর তৈরি করা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান বিএমও ইকোনমিকস।
বিএমও ক্যাপিটাল মার্কেটের ঊর্ধ্বতন অর্থনীতিবিদ অ্যারন গোর্টজেন বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় অত্যধিক গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করছে। এ কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে দেশ দুটির বিস্তৃত আবাদি অঞ্চল। সংকুচিত হয়েছে আবাদ প্রক্রিয়া। কয়েক বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে এ অঞ্চলের প্রধান কৃষিপণ্য গম ও ক্যানোলা (এক ধরনের তেলবীজ) উৎপাদন।
তবে নানা ধরনের নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যেও আশার আলো দেখছেন এ অর্থনীতিবিদ। তার মতে, উৎপাদনস্বল্পতার আশঙ্কায় দীর্ঘদিনের মাত্রাতিরিক্ত সরবরাহ ধারায় ভাটা পড়েছে। এ কারণে হু হু করে বাড়ছে খাদ্যশস্যের দাম। পাশাপাশি উত্তর আমেরিকায় গম ও ক্যানোলাসহ অন্যান্য কৃষিপণ্যের বলিষ্ঠ চাহিদা থাকায় বাজার আরো চাঙ্গা হয়ে উঠছে। দাম বাড়তে থাকায় কৃষকরা উৎপাদন ঘাটতি সত্ত্বেও উপকৃত হচ্ছেন। তবে ভোক্তাদের জন্য এ পরিস্থিতি সুখকর নয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা মহামারীতে সৃষ্ট মন্দার মধ্যেই খাদ্যপণ্যের চাহিদা নতুন মাত্রা লাভ করে। অন্যদিকে বিধিনিষেধ শিথিল হতে শুরু করায় দেশে দেশে রেস্টুরেন্ট খাত পুনরুজ্জীবিত হতে শুরু করেছে। এটি মুদিপণ্যের দাম ও চাহিদায় দ্রুত প্রসার ঘটিয়েছে। গোর্টজেন বলেন, পর্যাপ্ত সরবরাহস্বল্পতার বিপরীতে বলিষ্ঠ চাহিদা খাদ্যশস্য এবং গবাদি পশুর দামে উল্লম্ফন দেখা গেছে। এটি কৃষি খাতের জন্য অত্যন্ত ভালো খবর।
বিএমওর প্রতিবেদন বলছে, বৈরী আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয়। কৃষিযন্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ, সার, গবাদি পশু খাদ্য, এবং জ্বালানি ক্রয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে উত্তর আমেরিকার কৃষকদের। গোর্টজেন বলেন, কৃষি উৎপাদন ব্যয় ক্রমেই বাড়ছে। এ কারণে কৃষকদের কর্মদক্ষতায় মনোযোগ বাড়াতে হবে। এর মাধ্যমে ব্যয়সংকোচনের পাশাপাশি উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে। সৌভাগ্যবশত এ অঞ্চলের কৃষকদের অসাধারণ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, গত অর্ধ দশকে উত্তর আমেরিকায় গম উৎপাদন বেড়েছে ৪০ শতাংশ। যদিও একই সময়ে অঞ্চলটিতে গম আবাদি জমির পরিমাণ কমেছে ২০ শতাংশ।
বৈরী আবহাওয়া ও অন্যান্য প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে চলতি বছর খাদ্যশস্য উৎপাদন স্বাভাবিকের তুলনায় কমবে। তবে বিএমওর প্রতিবেদন উৎপাদন হ্রাসের যে তথ্য দিচ্ছে তা আশঙ্কাজনক। গোর্টজেন বলেন, এ বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে শীতকালীন গমের ফলন ছিল আশাব্যঞ্জক। এর পরও বছর শেষে দেশটির মোট গম উৎপাদন ১২ শতাংশ কমে আসতে পারে।
কানাডায় সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় বসন্তকালীন গম। চলতি বছর শেষে দেশটির মোট গম উৎপাদন স্বাভাবিকের তুলনায় ৩৫ শতাংশ কমে যেতে পারে। শুধু গমই নয়, খরায় দেশটির ক্যানোলা উৎপাদনও তীব্র ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কানাডা বিশ্বের শীর্ষ ক্যানোলা উৎপাদক দেশ। চলতি বছর দেশটির উৎপাদন ৩৭ শতাংশ কমে যেতে পারে। বিএমও বলছে, এ বছর উৎপাদন ঘাটতির কারণে উত্তর আমেরিকার গম, ভুট্টা ও সয়াবিনসহ সব পণ্যের মজুদ এক দশকের সর্বনিম্নে নেমে যেতে পারে।










