প্রথম স্পট বিটকয়েন এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) অনুমোদন দিয়েছে ইউএস সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। এর মাধ্যমে নতুন নতুন ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এ ব্যবসায় পুঁজি বিনিয়োগ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। ব্ল্যাকরক, ইনভেসকো ও ফিডেলিটির মতো প্রতিষ্ঠিত বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে গ্রেস্কেল ও আর্ক ইনভেস্টসহ নবাগতদের জন্যও এটা সুসংবাদ। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
বিটকয়েনকে বলা হচ্ছে প্রথম বিনিয়োগ, যা মিউচুয়াল ফান্ডের মতো সম্পদ ধরে রাখবে। আবার এটা শেয়ার বাজারের মতো এক্সচেঞ্জ করা যায়। এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ ট্যাক্স সুবিধা পাবে বিটকয়েন। অনুমোদনের পর গতকাল সকাল থেকে ক্রয়-বিক্রয় শুরু হয়েছে ডিজিটাল মুদ্রাটির।
বিশ্লেষকরা জানান, কয়েক মাস অপেক্ষা ও আইনি লড়াইয়ের পর বিটকয়েন এ অনুমোদন পেয়েছে। এর আগে হ্যাকাররা সোশ্যাল মিডিয়া সাইট এক্সে এসইসির অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একটি মিথ্যা পোস্ট করে। তারা দাবি করে বিটকয়েন অনুমোদন পেয়েছে। ফলে মুদ্রাটির দামে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছিল।
অনুমোদনের পর গতকাল বিটকয়েন প্রায় ৪৫ হাজার ডলারে লেনদেন হয়েছে। এটি ২০২১ সালের নভেম্বরে রেকর্ড ৬৯ হাজার ডলারের তুলনায় কম।
অন্যান্য মার্কেটে স্পট বিটকয়েন ইটিএফ সুবিধা পাওয়া গেলেও মার্কিন অনুমোদন ডিজিটাল মুদ্রাটির লেনদেনে নতুন যুগের সূচনা করবে বলে আশা করছেন বিশ্লেষকরা। মার্কিন প্রাতিষ্ঠানিক ও খুচরা বিনিয়োগকারীরা এখন ডিজিটাল মুদ্রাটির সরাসরি মুনাফা পাবেন। আগে অনুমোদনহীন এক্সচেঞ্জ থেকে বিটকয়েন ক্রয়ের ক্ষেত্রে ঝুঁকি ছিল।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে বিটকয়েনের ইটিএফ চালু করা প্রথম কোম্পানি মেলানিয়ন ক্যাপিটালের প্রধান নির্বাহী জাড কোমাইর বলেছেন, এটি একটি মাইলফলক। বৃহৎ মাপের ঐতিহ্যবাহী বিনিয়োগের স্বীকৃতি পেল বিটকয়েন।
বিশেষজ্ঞরা জানান, সিদ্ধান্তটি এসইসির একটি ইউ-টার্ন। নিয়ন্ত্রণকারীরা প্রায় এক দশক ধরে স্পট বিটকয়েন ইটিএফকে অস্বীকার করেছেন। তাদের যুক্তি ছিল, ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলো ম্যানিপুলেশন ও জালিয়াতির জন্য সহজলভ্য। কিন্তু গত বছর গ্রেস্কেল নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছিল। এরপর ফেডারেল আপিল আদালত গত বছরের আগস্টে রায় দিয়েছিল যে সিদ্ধান্তটি স্বেচ্ছাচারী ও অযৌক্তিক। এ রায় এসইসিকে তার অবস্থান পরিবর্তন করার জন্য এক ধরনের চাপ দিয়েছিল।
তবে ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে সমালোচনাও শোনা যাচ্ছে। বেটার মার্কেটসের প্রেসিডেন্ট ডেনিস কেলেহার বলেছেন, ‘অনুমোদনটি একটি ঐতিহাসিক ভুল, যা লাখ লাখ বিনিয়োগকারী ও অবসরপ্রাপ্ত মানুষের আর্থিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’










