দক্ষিণ কোরিয়ায় বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি মূল্যের নজিরবিহীন বৃদ্ধি ঘটেছে। ১৯৯৮ সালের পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতির সূচক ছিল সর্বোচ্চ। রোববার কোরিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনফরমেশন সার্ভিসের তথ্যানুসারে, মূল্যস্ফীতির ব্যারোমিটার বর্তমানে ১৩৫ দশমিক ৭৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে জানুয়ারিতে। অর্থাৎ গত বছরের জানুয়ারির তুলনায় ৩১ দশমিক ৭ পয়েন্ট বেড়েছে। সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে অর্থনৈতিক সংকটে দেশটি মূল্যস্ফীতি ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি দেখেছিল। খবর দ্য কোরিয়া হেরাল্ড।

পরিসংখ্যান অনুসারে, গত বছরের জানুয়ারির তুলনায় চলতি বছর জানুয়ারিতে বিদ্যুতের দাম ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। ১৯৮১ সালের পর এমন মূল্যস্ফীতি হয়নি দেশটিতে। সে বছর ৩৬ দশমিক ৬ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছিল বিদ্যুতের। এদিকে গ্যাসের মূল্য বেড়েছে ৩৬ দশমিক ২ শতাংশ, ২০০৫ সালের পর এই বৃদ্ধি সর্বোচ্চ। দেশটির বাড়িতে বসবাস করা মানুষ সাধারণত কেরোসিন ব্যবহার করেন। গত এক বছরে সে কেরোসিনের দাম বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ। দেশটিতে মূল্যস্ফীতির পেছনে আন্তর্জাতিক মূল্য ও প্রাকৃতিক গ্যাসের তরলীকরণ অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছে। ২০২১ সালের মার্চে সেখানে প্রাকৃতিক গ্যাসের তরলীকরণ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণে সংকট আরো ঘনীভূত হয়।

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত কোরিয়া ইলেকট্রিক পাওয়ার করপোরেশন ও কোরিয়া গ্যাস করপোরেশন দাম বাড়িয়েছে। বৈদ্যুতের দাম বৃদ্ধি গত বছরের এপ্রিল, জুলাই ও অক্টোবরে তিন দফা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। গত মাসেই পুনরায় প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় ১৩ দশমিক ১ ওন বৃদ্ধি ঘটেছে। গত শেষ প্রান্তিকের তুলনায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে যদিও সরকার গ্যাসের দাম স্থির রেখেছে। কিন্তু গত বছরে চার দফা দাম বৃদ্ধির কারণে এর মধ্যে তা গ্রাহকদের জন্য বোঝায় পরিণত হয়েছে। ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে জীবনযাত্রার মান। সংকট দৃষ্টে বিশ্লেষকরা মনে করেন, মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশিত মাত্রায় রাখতে হিমশিম খাবে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার।