অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক সরবরাহে শিগগিরই ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা আগামী বছর এ খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বয়ে আনবে। গোল্ডম্যান স্যাকস সম্প্রতি এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। খবর অয়েল প্রাইস ডটকম।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের অতিরিক্ত উত্তোলন সক্ষমতা অব্যাহতভাবে কমছে। বিনিয়োগ পরিস্থিতিও হতাশাজনক। আর এসব বিষয় জ্বালানি তেলের ভবিষ্যৎ সরবরাহকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

সৌদি আরবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সম্প্রতি গোল্ডম্যান স্যাকসের ঊর্ধ্বতন বিশ্লেষক জেফরি কারি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের আপৎকালীন উত্তোলন সক্ষমতা কমছে। কিন্তু শিল্পসংশ্লিষ্টরা আগামী দিনগুলোয় উত্তোলন সুরক্ষিত রাখার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ ব্যয় করছেন না। ফলে আগামী বছর জ্বালানি তেলের বাজার মারাত্মক সরবরাহ সংকটে পড়তে পারে। তবে এর আগেই পণ্যটির আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ১০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়াতে পারে।’

জেফরি কারির ভাষ্য, চীনে চাহিদা বৃদ্ধি ও রাশিয়ার জ্বালানি খাতে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আসন্ন ঘাটতিকে উসকে দিচ্ছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক (এপিল-জুন) থেকেই এ ঘাটতি দৃশ্যমান হয়ে উঠতে পারে বলেও মনে করছেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে উত্তোলক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আপৎকালীন উত্তোলন সক্ষমতায় হাত দিতে বাধ্য হবে। ফলে এ সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক কমবে। ধীরে ধীরে যা সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্যহীন পরিস্থিতি তৈরি করবে।

জেফরি বলেন, ‘চীনে এখনো জ্বালানি তেলের চাহিদা পুরোপুরিভাবে ঘুরে দাঁড়ায়নি। এ কারণে আমরা এখনো উদ্বৃত্তে আছি। তবে ২০২৪ সালে আপৎকালীন উত্তোলন সক্ষমতা কমার আশঙ্কা রয়েছে, যা আগামী বছর ভয়াবহ সমস্যা তৈরি করবে।’

সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী আব্দুল আজিজ বিন সালমানের কথায়ও একই উদ্বেগ ফুটে উঠেছে। আগামী দিনগুলোয় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনে অপর্যাপ্ত বিনিয়োগ বড় চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এক বছরের বেশি সময় ধরেই এ সতর্কবার্তা উল্লেখ করছেন আব্দুল আজিজ। তিনি বলেন, ‘তথাকথিত নিষেধাজ্ঞা ও বিনিয়োগস্বল্পতা শুধু একটি সমস্যাই ডেকে আনবে। আর তা হলো জ্বালানি সংকট।’

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়াতে পারে বলে ধারণা করছে ওপেক। ২০২২ সালে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আট বছরের মধ্যে প্রথম ১০০ ডলারের গণ্ডি স্পর্শ করে। ওই বছর বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর ধাক্কা সামলে ওঠে। ঠিক একই সময় ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাপক ঝুঁকির মুখে পড়ে। ফলে শক্তিশালী হয়ে ওঠে পণ্যটির চাহিদা প্রবৃদ্ধির গতি।

জ্বালানি তেলসহ সব ধরনের পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে গত বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো কঠোর নীতি গ্রহণ করে। উন্নত দেশগুলোয় রেকর্ড মাত্রায় বাড়ানো হয় সুদহার। এতে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে প্রকট হয়ে ওঠে অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা। নিম্নমুখী হতে শুরু করে জ্বালানি তেলের বাজার। তার ওপর চীনে জিরো কভিড নীতির কারণে দেশটিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা তলানিতে নেমে আসে। বছরের শেষে এসে আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গড়ে ৮৬ ডলারে নেমে আসে।

ওপেক জানায়, এ বছর বাজার আবারো ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরবে। এতে জোটের সদস্য দেশগুলোর আয় বাড়বে, যা উত্তোলন বাড়াতে সহায়তা করবে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, আবারো জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলারের গণ্ডি পার করলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পিছিয়ে পড়বে অনেক দেশ।’