বাজারের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে ওপেক প্লাসের উত্তোলনে কাঁটছাট ও লিবিয়ায় নতুন করে সংঘাতের ছাপ পড়েছে জ্বালানি তেলের বাজারে। আজ সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে দাম খানিকটা বেড়েও গেছে।
সৌদি আরব ও তার মিত্রদের সংস্থাটি সম্প্রতি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ আনায় উৎপাদন কমানোয় জোর দিয়েছে। অন্যদিকে প্রায় দুই বছর পর লিবিয়ায় রাজনৈতিক সংঘাত শুরু হওয়ায় জ্বালানি তেলের সরবরাহে প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের দুই-তৃতীয়াংশই আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্ট। আজ সোমবার দশমিক ৫৬ শতাংশ বেড়ে ব্রেন্ট বিক্রি হয়েছে প্রতি ব্যারেল ১০১ ডলার ৫৬ সেন্টে। অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩ ডলার ৭৭ সেন্ট।
আগের এক সপ্তাহ জ্বালানি তেলের বাজার ছিল মোটামুটি শান্ত। ফিউচার মার্কেটে ব্রেন্টের দাম ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি দাঁড়ায় ১০০ ডলার ৯৯ সেন্ট এবং ডব্লিউটিআই আড়াই শতাংশ বেড়ে হয় ৯৩ দশমিক ৬ সেন্ট।
তুলনামূলক বিচারে আগের কয়েক সপ্তাহ ধরে বাজার ছিল নিম্নমুখী। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা মন্দার আশঙ্কা করছিলেন। এ ছাড়া গত শুক্রবার ইউএস ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের দেয়া মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত বাজারের মনোভাবকে প্রভাবিত করে।
গত সপ্তাহে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রী প্রিন্স আব্দুল আজিজ বিন সালমান একটি সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন, বাজারের অস্থিরতা মোকাবেলায় ওপেক প্লাস এবং রাশিয়াসহ মিত্রদের সঙ্গে কাজ করছেন। উত্তোলন কমানোসহ পরিস্থিতির সঙ্গে সংগতি রেখে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন তিনি।
এর আগে ২৩টি দেশ নিয়ে গঠিত ওপেক প্লাস করোনাভাইরাস মহামারীকালীন সংকট মোকাবেলায় বাড়তি উত্তোলনে গিয়েছিল। কিন্তু বাজার দাম বাড়াতে গিয়ে তাদের পদক্ষেপ নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। তবে এও শোনা যায়, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে বাজারে নতুন করে যোগ হবে তেহরানের জ্বালানি তেল। যা পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারে।










